বাধা অনেক, তবু সুন্দরবনের দাদু দিদার আশ্রয়েই বাড়ছে অনেক শৈশব

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধকতা এসেছে জীবনে। কিন্তু তাতো শারীরিক। তাকে এক পাশে সরিয়ে রেখেই কচি মুখগুলিতে হাসি ফুটিয়ে তোলার অদম্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন একা। ১৬ জন অনাথ শিশুর জীবন গড়ে দেওয়ার সে লড়াইয়ে আপাতত তেমনভাবে পাশে পাননি কাউকে। পুরোটাই নিজের সঞ্চয়, আর  সহৃদয় কিছু মানুষের বিচ্ছিন্ন কিছু সাহায্যে আপাতত নিজের স্বপ্নকে লালন করছেন সুন্দরবনের বাসিন্দা দিলীপকুমার করণ।

    হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার ক্ষিরিশতলার বাসিন্দা দিলীপবাবু। একসময় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন। সে তো রুটিরুজি। তার বাইরে গিয়ে সমাজের জন্য কিছু করার, বিশেষ করে অবহেলিত শৈশবের জন্য কিছু করার ইচ্ছে লালন করছিলেন মনে। ২০১১ সালে নিজের বাড়িতেই ঠাঁই দিলেন তিন অনাথ কন্যাকে। তাঁদের দেখভাল, পড়াশোনা শেখানো শুরু করলেন দিলীপবাবু ও তাঁর স্ত্রী। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকল সংখ্যাটা। কাউকে খুঁজে আনলেন। কেউ আবার খুঁজে খুঁজেই পৌঁছে গেল এখানে। এখন খোকন, গণেশ, পিউরা সংখ্যায় ১৬।

    নিজের গ্রাম ক্ষিরিশতলাতেই ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে কয়েক শতক জায়গার উপর মাটির ঘর ও খড়ের ছাউনি দিয়ে ৮ বছর আগে গড়ে তোলেন সূর্যনগর আনন্দমন আশ্রম। সেখানেই দিলীপবাবু আর তাঁর স্ত্রী নীলিমা করণের তত্ত্বাবধানে থাকে ১৬ জন। নিজের যাবতীয় সঞ্চয় দিয়ে আনন্দমন গড়েছেন। তবে ছোটদের খুব ভাল রাখার ব্যবস্থা করে উঠতে পারেননি এখনও। বললেন, ‘‘কিছুটা পাকা ঘর করেছি। কিন্তু বিধিসম্মত শৌচালয় এখনও করে উঠতে পারিনি। পানীয় জলেরও সমস্যা রয়েছে। সাধারণ ডাল ভাতেই চলছে ওদের। সহৃদয় কেউ কেউ বিশেষ দিনগুলিতে কখনও কখনও আশ্রমে এসে ভালমন্দ খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমিই ওদের প্রাথমিক পাঠ দিয়ে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দেই। কয়েকটা কুঁড়ি তো ফুল হয়ে ফুটুক।’’

    অনেক অসুবিধা, অপ্রাপ্তি হয়তো আছে। তবুও জীবনটা যে আসলে সুন্দর এখানে এসেই বুঝেছে। কলকল করে সে সবই বলছিল গণেশ, খোকনরা। বলছিল, ‘‘দাদু দিদা আমাদের যা ভালবাসে, আগে কেউ আমাদের এত ভালবাসেনি। আমরা খেয়েদেয়ে রোজ স্কুলে যাই, খেলা করি, কতজন আমাদের কত খেলনা দিয়ে গেছে।’’

    ‘‘ওদের মুখগুলির দিকে তাকিয়েই নতুন করে লড়াইয়ের রসদ পাই। বুঝি আমরা থেমে গেলে ওদের হাঁটাও বন্ধ হয়ে যাবে।’’ বলছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More