করোনা সংকটে আরও গরিব হতে পারেন ভারতের ৪০ কোটি মানুষ, জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জ

১৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে মানব সভ্যতা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন জানাল, ভারতে অসংগঠিত ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৪০ কোটি মানুষ সম্ভবত বিপদে পড়তে চলেছেন। অতিমহামারীর ফলে তাঁরা আরও বেশি গরিব হয়ে যাবেন। আগামী দিনে ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ চাকরি অতিমহামারীর দ্বারা প্রভাবিত হবে। ২০২০ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মোট শ্রমদিনের ৬.৭ শতাংশকে প্রভাবিত করবে মহামারী।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে প্রাদুর্ভাব ঘটা এই সংক্রামক অসুখ অচিরেই বৈশ্বিক মহামারীর চেহারা নিয়েছে। একের পর এক বিধ্বস্ত হয়েছে ইরান, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স। দেরি করে হলেও, এ অসুখ থাবা বসিয়েছে আমেরিকাতেও। আর সেখানে এর প্রকোপ বাড়ছে হু হু করে। ভারতেও ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছে, কোভিড ১৯ ইতিমধ্যে বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক সংকট সৃষ্টি করেছে। তার ফলে অসংগঠিত ক্ষেত্রের লক্ষ লক্ষ কর্মী ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগামী দিনে বিশ্ব জুড়ে অন্তত ২০০ কোটি মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়বেন। উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই করোনা সংকটের প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি।

ভারত সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি শ্রমিক আরও গভীর দারিদ্রে তলিয়ে যাবেন। বর্তমানে ভারতে যে লকডাউন চলছে, তাতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের অনেকে ফিরে গিয়েছেন গ্রামে।

এরপরে আইএলও বলেছে, বিভিন্ন কারখানায় ব্যাপক হারে বাড়ছে ছাঁটাই। কমছে বেতন। কাজের সময় বাড়ছে। এর ফলে বিশ্ব জুড়ে ১২৫ কোটি মানুষ প্রভাবিত হচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই অদক্ষ শ্রমিক। অল্প বেতনের চাকরিতে নিযুক্ত ছিলেন। আচমকা আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বিপদে পড়েছেন। আইএলও-র ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, “আমাদের দ্রুত কাজ করতে হবে। সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা যদি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারি তবে অনেকে বাঁচবে। না হলে ধ্বংস হয়ে যাবে।”

ইতিমধ্যে বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে খবর এসেছে, পুরো সময়ের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে অনেককে। আরব রাষ্ট্রগুলিতে পুরো সময়ের কর্মীদের মধ্যে ৮.১ শতাংশ ছাঁটাই হয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা ৫০ লক্ষ। ইউরোপে ছাঁটাই হয়েছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ পুরো সময়ের কর্মী। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলিতে ছাঁটাই হয়েছেন ১২ কোটি ৫০ লক্ষ কর্মী।

আইএলও-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনীতির যে ক্ষেত্রগুলি অতিমহামারীর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে তার মধ্যে আছে ম্যানুফ্যাকচারিং ও খুচরো ব্যবসা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More