বুধবার, অক্টোবর ১৬

হংকং-এ রবিবার জোর বিক্ষোভের প্রস্তুতি, তৈরি পুলিশও, মিছিল মিটিং নিষিদ্ধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ফেব্রুয়ারি মাসে চিন একটি বিল এনে বলেছিল, এবার থেকে হংকং-এ কেউ বন্দি হলে তাকে বিচারের জন্য চিনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানো যাবে। এতে হংকং-এর বিশেষ মর্যাদা নষ্ট করা হচ্ছে বলে মনে করেছিলেন সেখানকার মানুষ। বিলের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ফেব্রুয়ারি থেকেই। জুন মাসে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে। ইতিমধ্যে সরকার জানিয়েছে, ওই বিল প্রত্যাহার করা হল। তারপরেও বিক্ষোভ থামার লক্ষণ নেই। গত শুক্রবারই হংকং বিমান বন্দর দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা।

আগামী রবিবার বড় মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল আন্দোলনকারীরা। যদিও পুলিশ এদিন সব মিছিল-মিটিং বন্ধ করে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল বার করতে চায়, তাহলে বড় গোলমালের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে শহরে।

রবিবার শহরের ওং তাই সিন, তাই পো, শাম শুই পো এবং ইস্ট হংকং আইল্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বেরোনর কথা ছিল। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে আশঙ্কা করে পুলিশ চারটি মিছিলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রবিবার দুপুর একটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া পার্কে অবস্থান করতে পারবেন। হংকং পুলিশের প্রধান জিম নগ প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, গত দু’মাসে প্রায়ই দেখা গিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকেই শুরু হয়েছে সংঘর্ষ। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন, রাস্তা অবরোধ করেছেন, সম্পত্তি ধ্বংস করেছেন, এমনকী আগুনও লাগিয়েছেন। সেজন্যই বিভিন্ন ‘হাই রিস্ক লোকেশন’ যথা থানা ও সরকারি ভবনের কাছে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল হংকং-এ। সেবার আন্দোলনের শেষে তরুণ-তরুণীরা বলেছিল, আমরা আবার ফিরে আসব। পাঁচ বছরের মধ্যে ফের শুরু হয়েছে বিক্ষোভ।

চিনের প্রতি দীর্ঘদিন ক্ষোভ রয়েছে হংকংবাসীর। ১৯৯৭ সালে ওই দ্বীপ শহরটি চিনের সঙ্গে যুক্ত হয়। তখনই স্থির হয়েছিল, হংকং বহু ক্ষেত্রে স্বশাসন ভোগ করবে। বিদেশ ও প্রতিরক্ষা বাদে সব ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে শহরের প্রশাসন। সেই অনুযায়ী হংকং-এ এমন কয়েকটি আইন আছে যা চিনের মূল ভূখণ্ডে নেই। সেখানে জমায়েত করার অধিকার ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার স্বীকৃত। ১৯৮৯ সালে চিনের তিয়েন আন মেন স্কোয়ারে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন করে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এই শহরে।

অভিযোগ, অনেক দিন ধরেই চিন এই স্বাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আইনসভার যে সদস্যরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের একে একে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিছুদিন আগে হংকং-এর এক বই বিক্রেতা ও এক বড় ব্যবসায়ী আচমকা উধাও হয়ে যান। পরে জানা যায়, তাঁরা চিনে বন্দি আছেন।

শহরের লেখক ও শিল্পীরা বলছেন, তাঁদের ওপর চাপ আসছে যাতে চিনের পক্ষে আপত্তিকর কিছু না লেখেন। বিদেশি সাংবাদিকদেরও অনেক সময় শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

হংকং-এর বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের চিনা বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন না। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরের মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ নিজেদের চিনের নাগরিক বলতে গর্ববোধ করেন। ৭১ শতাংশ নিজেদের বলেন হংকংয়ার।

পর্যবেক্ষকদের মতে, চিনের সঙ্গে হংকং-এর মানুষের মনের মিল কখনই হয়নি। এই অবস্থায় দ্বীপ শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ হওয়া অনিবার্য ছিল।

Comments are closed.