বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

ডাব পাড়তে এসে চুরির ছক, চিনে ফেলায় খুন বর্ধমানের মহিলা আইনজীবী

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : বাড়ির গাছ থেকে ডাব পাড়তে এসে সুলুকসন্ধান জেনে গিয়েছিল চোর। পরে চুরি করতে এলে গৃহকর্ত্রী চিনে ফেলাতেই বাধল গণ্ডগোল। প্রাণটাই খোয়াতে হল তাঁকে। এক সপ্তাহের মাথায় বর্ধমানের মহিলা আইনজীবী খুনের কিনারা করে এমনটাই দাবি করল পুলিশ। জামালপুরের আঝাপুরে যেখানে ওই মহিলা আইনজীবীর বাড়ি সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হল প্রশান্ত ক্ষেত্রপাল ও সুজিত ঘড়ুই নামে দুই অভিযুক্তকে।

কালীপুজোর আগের রাতে নিজের বাড়িতে খুন হন মহিলা আইনজীবী মিতালী ঘোষ। পরের দিন, অর্থাৎ রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি তাঁর পরিচারিকা। তখন তিনি পাশের বাড়ি থেকে একটি মই এনে টিনের চালে উঠে দেখেন উঠোনের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই মহিলা আইনজীবী। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। দেখা যায় তাঁর দোতলা বাড়ির একতলা পুরো লণ্ডভণ্ড। তালা ভেঙে সরানো হয়েছে জিনিসপত্র, গয়নাগাটি। খবর পেয়ে আসে পুলিশ।

ওইদিন সকালেই মিতালীদেবীর ভাই গৌরাঙ্গ ঘোষ হাওড়ার বালি থেকে আঝাপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন দিদির কাছে ভাইফোঁটা নেওয়ার জন্য। পথেই দিদির খুনের খবর পান।

খুনের তদন্তে নামে পুলিশ। মঙ্গলবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের একটি টিম মিতালী ঘোষের বাড়ি যান। বাড়ির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন ও নমুনা সংগ্রহ করেন। বুধবার কলকাতা থেকে সিনিয়র সায়েন্টিস্ট চিত্রাক্ষর সরকার যান আঝাপুরে মিতালীদেবীর বাড়ি। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে একশো জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।  তারপরে আঝাপুর থেকেই গ্রেফতার করা হয় দুই অভিযুক্তকে।

জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জী জানান, ধৃত প্রশান্ত ক্ষেত্রপাল ও সুজিত ঘড়ুইয়ের বাড়ি আঝাপুর গ্রামেই। সুজিত ডাবের ব্যবসা করে। আর প্রশান্ত আলুর গাড়িতে লেবারের কাজ করে। সুজিত বেশ কয়েকবার আইনজীবি মিতালী ঘোষের বাড়িতে ডাবগাছ পরিষ্কার করতে গিয়েছিল। সেই সূত্রেই বাড়ির পরিবেশ পরিস্থিতি সম্বন্ধে আঁচ করে। মিতালীদেবী যে বাড়িতে একাই থাকেন তা জানার পর বাড়ির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে। তারপরেই সে ওই বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে। দোসর হিসাবে পাড়ারই ছেলে প্রশান্তকে সঙ্গে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, “কালীপুজোর আগের রাতে ধৃতরা মিতালীদেবীর বাড়িতে ঢোকে। রাত আটটার সময় বাড়ির ধানের গোলার আড়ালে প্রায় ঘণ্টাখানেক লুকিয়ে ছিল। তারপর সুযোগ বুঝে মিতালী ঘোষের হাত পা বেঁধে বাড়ির ভিতর লুঠপাট শুরু করে। কিন্তু  মিতালিদেবী তাদের চিনে ফেলেন ও চিৎকার শুরু করেন। তখন তারা ভয় পেয়ে মিতালীদেবীর গলা টিপে নাকে মুখে আঘাত করে। পরে মাথায় ফুলের টব দিয়ে আঘাত করে। আর তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে কিছু টাকা ও সোনা উদ্ধার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনও ক্রাইম রেকর্ড নেই।”

আইনজীবী খুনের কিনারা হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পুলিশমহলে। তবে গ্রামের দুই যুবক এই খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধরা পড়ার খবরে হতবাক এলাকার লোকজন। তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে খেটে খাওয়া দুই যুবক এই ঘটনায় জড়িত।

Comments are closed.