বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

গলার মধ্যে আটকে ছিল রক্তচোষা জোঁক!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু ঘটনায় অনেকের গা হাত পা শিরশির করে, কেউ বা আবার খুব ভয় পেয়ে যান।  যাঁদের এমন সমস্যা আছে, তাঁরা এই খবর না পড়লেই ভালো।  যাঁদের সমস্যা নেই, তাঁরা মন দিয়ে পড়ে দেখুন তো আপনাদের কোনও পরিচিতের সাথেও এমন হতে পারে কি? যাঁরা মাঠে-ঘাটে সারাদিন কাজের জন্য ব্যস্ত থাকেন।  জল পান না ঠিক করে, তাঁরা তো অনেক সময়েই মাঠে যে প্রকৃতির কোল থেকে জল আসে, তাতেই গলা ভিজিয়ে নেন।  প্রচণ্ড রোদ্দুরে ঘেমে নেয়ে ওটুকু তেষ্টাই মেটাতে গিয়েছিলেন মিস ওয়াঙ।  ৬৫ বছরের ওয়াঙ চিনের বাসিন্দা।

ওয়াঙ বেশ কিছুদিন ধরেই খুব শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।  গলা খুসখুস করছিল।  কাশি হচ্ছিল বারবার।  এমনকি রক্তও পড়ছিল কাশির সাথে।  তিনি স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারকে পুরোটা বলেন, সাথে জানান তাঁর খালি মনে হচ্ছে, গলায় কিছু একটা নড়াচড়া করছে।  গুইঝৌ প্রভিনশিয়াল পিপলস হসপিটালের রেসপিরেটরি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের প্রধান ইয়াও হোঙমেই মিস ওয়াঙকে বলেন একটা ব্রঙ্কোস্কপি করে দেখতে।  ২ রা জুলাই ব্রঙ্কোস্কপি করতে গিয়ে ডাক্তারদের চোখ কপালে উঠে যায়।  ওয়াঙের শ্বাসনালীতে কুণ্ডলী পাকিয়ে আটকে ছিল তিন সেন্টিমিটার লম্বা একটা জোঁক!

শ্বাসনালীর কাছে গল্টিসে জোঁকটা গুটিয়ে আটকে ছিল।  আমাদের ভোকাল কর্ড যেখানে থাকে ঠিক সেই জায়গা এটা।  স্বাভাবিকভাবেই নানা সমস্যা হচ্ছিল ওয়াঙের।  হোঙমেই ও তাঁর টিম ড্রাই আইস দিয়ে প্রথমে জোঁকটাকে একদম অবশ করে নেন।  তারপর সেটাকে টেনে বের করেন ওয়াঙের গলার ভিতর থেকে।  পুরো কাজটা করতে প্রায় ৬ মিনিট সময় লাগে।  তবে ডাক্তাররা বলছেন জোঁকটা আরও কদিন দেরি হলেই ওয়াঙের সাইনাসে আক্রমণ করতে পারত।  সেটার ফলাপল মারাত্মক হতে পারত।  ওয়াঙ যেহেতু ক্ষেতে চাষের কাজ করেন, কোনও সময় হয় তো তিনি মাঠের অপরিশোধিত জল খেয়ে ফেলেছিলেন।  আর সেই জলেই হয় তো জোঁকের ডিম বা লার্ভা থাকতে পারে।  তা থেকেই এই বিপত্তি ঘটেছিল বলে ডঃ হোয়াঙ এবং তাঁর টিম মনে করছেন।

এর আগে আমরা খবরে দেখেছি, এক মহিলার চোখের জলে পাহাড়ি মৌমাছি বাসা বেধেছিল।  এখন আবার গলায় জোঁক এসে ঘাপটি মেরে বসেছিল।  অতএব কে কোথায় কখন বাসা বেধে ফেলছে, আপনি জানেন না।  অন্তত সাবধান হতে পারেন, কাছের মানুষদের যত্নে রাখতে পারেন।  বিপদ থেকে দূরে থাকার চেষ্টাটুকু থামাবেন না।

Comments are closed.