দেশে ৩৮২ জন চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন কোভিড যুদ্ধে, কেন্দ্র কিছুই জানে না! তীব্র ক্ষোভ আইএমএ-র

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি জানা গেছে, মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া আচমকা লকডাউনের জেরে দেশের কত অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, সে তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নেই। বিরোধীদের কাছে যথেষ্ট ভর্ৎসনার শিকার হয়েছে এ নিয়ে কেন্দ্র। এবার জানা গেল, শুধু শ্রমিক নয়, আরও একটি জরুরিতম তথ্য নেই সরকারের কাছে। দেশজুড়ে কোভিড যুদ্ধে সামনের সারিতে যাঁরা লড়ছেন, অর্থাৎ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাঁদের মধ্যে কতজন করোনা সংক্রমণের কারণে প্রাণ দিয়েছেন, সে তথ্যও নেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন এ নিয়ে কোও কথাই বলেননি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে সরাসরি জানিয়েই দিয়েছেন, এই সংক্রান্ত তথ্য তাঁদের কাছে নেই। করোনা যোদ্ধাদের মৃত্যু নিয়ে কেন্দ্রের এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবের এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। সাংবাদিক বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে অশ্বিনী কুমার জানান, করোনা মহামারীতে এ পর্যন্ত কত জন স্বাস্থ্যকর্মী মারা গিয়েছেন, সে সম্পর্কিত কোনও তথ্য কেন্দ্রের কাছে নেই। এই উদাসীনতার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আবার বলেন, হাসপাতালগুলি রাজ্য সরকারের অধীনে। তাই কেন্দ্র কিছু জানে না।

এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইএমএ। একটি চিঠি লিখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তারা। তাদের অভিযোগ, কোভিড ১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মত্যাগের খোঁজ সরকার রাখে না। অথচ ভারতের মতো বিশ্বের আর কোনও দেশে করোনায় এত চিকিত্‍‌সক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়নি। কিন্তু কেন্দ্রের সরকার এমন একটা ভান করছে, যেন এই তথ্যটি দেশের মানুষের কাছে কোনও গুরুত্ব রাখে না। সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।

এই চিঠির পরে করোনায় মৃত চিকিত্‍‌সকদের নামের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয় আইএমএ থেকে। তারা দাবি করেন, সারা দেশে ৩৮২ জন চিকিত্‍‌সক এ পর্যন্ত মারা গিয়েছেন। কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হয়েছে, মৃত চিকিত্‍‌সকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

ওই তালিকা-সহ একটি বিবৃতি দিয়ে আইএমএ বলে, করোনায় মৃত চিকিত্‍‌সকদের পরিবার সরকারের কাছ থেকে অন্তত সান্ত্বনা ও সমবেদনা প্রাপ্য। চিকিত্‍‌সক ছাড়াও কত জন নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনা সংক্রমণে মারা গিয়েছেন, সরকারি তরফে তাঁদের একটা নামের তালিকা করারও অনুরোধ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মহামারীতে কত জন চিকিত্‍‌সক বা স্বাস্থ্যকর্মী এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হলেন বা তাঁদের জীবন উত্‍‌সর্গ করলেন, সরকার যদি এই পরিসংখ্যান রাখতে না পারে, তা হলে সরকার মহামারী আইন ১৮৯৭ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন পরিচালনার নৈতিক কর্তৃত্ব হারাবে।

চিঠিতে কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ উগরে সরকারকে ‘ভণ্ড’ বলেও বিষোদ্‌গার করেছে সংগঠন। তাদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকার ‘করোনা যোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করেছে অথচ, চিকিত্‍‌সক বা স্বাস্থ্যকর্মীর করোনায় মৃত্যু হলে, তাঁদের পরিবারের প্রতি সরকার কোনও দায়িত্ব পালন করেছে না। করবে কী করে, কোনও তথ্যই তো নেই! এ নিয়ে চিকিত্‍‌সক সংগঠনের তরফে ক্ষোভ ব্যক্ত করা হয়েছে।

মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল, সারা দেশের ২২.১২ জনস্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকরা ৫০ লক্ষ টাকা করে বিমার আওতায় আসবেন। চিকিৎসকদের বক্তব্য, কোথায় কত স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন সেই তথ্যই যদি না থাকে সরকারের কাছে, তাহলে কী করেই বা এই জাতীয় বিমা পাওয়া যাবে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More