৩৪০ জন একদিনে করোনায় আক্রান্ত রাজ্যে, জেলাগুলিতে দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ: স্বাস্থ্য ভবন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪০ জন! পরপর কয়েক দিন বড় সংখ্যায় এই বৃদ্ধির পরে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গেল সাড়ে ছ’হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। ফলে কোভিডে মোট মৃতের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়াল ২৭৩। আরও ৭২ জন শরীরে করোনা সংক্রমণ থাকা অবস্থায় মারা গেছেন কো-মর্বিডিটির কারণে। ফলে করোনা নিয়ে মোট মৃত্যু এ রাজ্যে ঘটেছে ৩৪৫ জনের। পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭০ জন সুস্থও হয়ে উঠেছেন। ফলে মোট কোভিডজয়ীর সংখ্যাও এ রাজ্যে ২৫৮০। সবমিলিয়ে ডিসচার্জ রেট ৩৯.৬৪ শতাংশ। এই মুহূর্তে করোনা অ্যাকটিভ আছে ৩৫৮৩ জনের দেহে।

    এ দিন ৯৪৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার মতে, বেশি সংখ্যায় টেস্ট হয়েছে বলে আরও বেশি কোভিড পজিটিভ রোগীর সন্ধান মিলেছে ঠিকই, কিন্তু জেলাভিত্তিক বৃদ্ধির সূচকে নজর রাখলেই স্পষ্ট হয়, গত কয়েক দিনে যে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ফিরছেন, তাঁদের অনেকের মধ্যে উপসর্গ থাকার কারণেই কোভিড পজিটিভের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেল এতটা।

    এ দিনের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৯৯ জনই কলকাতার। তার পরেই আছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৮, ৪১ ও ৩৮। এর পরেই আছে বাঁকুড়া, কুচবিহার ও মালদা, যেখানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ১৫, ১৪, ১০। মৃতদের মধ্যে ৭ জন কলকাতার, ১ জন করে দার্জিলিং, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা বলে প্রকাশিত বুলেটিনে।

    রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পরিসংখ্যান দেখে উদ্বেগের পারদ হু হু করে চড়লেও, ভিন্ রাজ্য থেকে শ্রমিকরা ফিরতে শুরু করলেই যে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়াবে অনেক বেশি, সে আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। প্রথম দিকে বহু জেলায় শোনা গেছিল, অন্য রাজ্য থেকে ফেরার পরে তাঁদের গ্রামে বা এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু প্রশাসন বলছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের অসহায়তাও মানবিক ভাবে বিচার করতে হবে। তাঁরা ভিন্ রাজ্যে যেভাবে ছিলেন লকডাউনের পর থেকে, তাতে তাঁদের বাড়ি ফেরানোরই কথা।

    তবে এই মানবিকতার পাশাপাশি কড়া নজরদারি ভীষণ জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা নিশ্চিত করতে হবে, ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকরা যেন অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলেই যেন পরীক্ষা করান। রোগ ধরা পড়লে যেন আইসোলেশনে রাখা হয় তাঁদার। কারণ, এতে তাঁর নিজের পরিবার ও গোটা রাজ্য সুরক্ষিত থাকবে। তবে বহু জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, ফিরে আসা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে না ঠিকমতো। এর ফলেই অসুখ আরও ছড়াচ্ছে বলে অনুমান অনেকের।

    বৃহস্পতিবারের বুলেটিন আরও বলেছে, রাজ্যে মোট টেস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩২ হাজার, ২২৫। প্রতি ১০ লক্ষ মানুষে টেস্ট হয়েছে ২৫৮০ জনের। এই সংখ্যাটা বেশ সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন অনেকে। মোট ৪১টি ল্যাবরেটরিতে টেস্ট হচ্ছে করোনার। ৬৯টি হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা। ৯২০টি আইসিইউ বেড রয়েছে, ভেন্টিলেটর রয়েছে ৩৯২টি। রাজ্যের মোট ৫৮২টি সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আছেন ১৮ হাজার ৫২৫ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন প্রায় দেড় লক্ষ জন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More