ডিএ কর্মীর অধিকার, কেন্দ্র-রাজ্য বৈষম্য করা যাবে না: হাইকোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

     দ্য ওয়াল ব্যুরোরাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা তথা ডিএ নিয়ে হাইকোর্টে বড় রকমের ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, মহার্ঘ ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের অধিকার। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কোনও বৈষম্য করা ঠিক নয়। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যে হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরও সেই এক হারে মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে। মুদ্রাস্ফীতির হারের ভিত্তিতেই ডিএ-র পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে সরকারকে।

    বাংলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে (স্যাট) মামলা করেছিল আইএনটিইউসি-র কর্মচারী সংগঠন। ওই মামলা শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছিল হাইকোর্ট অবধি। মামলা চলাকালীন হাইকোর্টের বিচারপতিরা যে পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছিলেন, তা নিয়ে আশাও বাড়ছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মনে। সে দিক থেকে শুক্রবার আদালতে বড় জয় হল তাঁদের।

    এর আগে ডিএ মামলায় স্যাটে শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা সওয়াল করেছিলেন, মহার্ঘ ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ অধিকার নয়। সরকার ইচ্ছা করলে কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারে, আবার নাও দিতে পারে। সবটাই সরকারের ইচ্ছা, অনিচ্ছা এবং সাধ্যের উপর নির্ভরশীল। স্যাটের রায়েও রাজ্য সরকারের মতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। স্যাট বলেছিল, ডিএ সরকারের ‘দয়ার দান’।

    কিন্তু শুক্রবার হাইকোর্টের দুই বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ স্যাটের রায়কে খারিজ করে দেন। সেই সঙ্গে বলেন, মূল বেতনের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ অধিকার। তা সরকারের দয়ার দান নয়। ২০০৯ সালে রোপা নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীদের সেই অধিকার রয়েছে। তা রাজ্য সরকার ইচ্ছামতো খর্ব করতে পারে না। সুতরাং গোটা মামলাটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে স্যাটকে। দু’সপ্তাহের মধ্যে স্যাট ওই মামলা গ্রহণ করবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের মত জানাতে হবে স্যাটের কাছে। আর দু’মাসের মধ্যে ওই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে স্যাটকে।

    হাইকোর্টের থেকে এই ধাক্কা যে আসতে পারে তার আগাম আশঙ্কা ছিল নবান্নেরও। তাই মাস খানেক আগে হঠাৎই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নের অলিন্দে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “আগামী জানুয়ারি মাস থেকে বর্ধিত ডিএ পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। ১২৫ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়া হবে তাঁদের। যার মানে বকেয়া ডিএ টোটালটাই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” রাজ্য সরকারের তরফে সেই হিসাব আদালতেও পেশ করা হয়। কিন্তু তা হাইকোর্টে গ্রাহ্য হয়নি।

    বিচারপতিরা বলেন, এ রাজ্যেও বহু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তাঁরা এক রকম মহার্ঘ ভাতা পাবেন। আর তাঁদের পাশাপাশি থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের থেকে কম হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন তা হতে পারে না। দু’য়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

    হাইকোর্টের এই রায় নবান্নের কোষাগারে যে বড় ধাক্কা দিল সংশয় নেই। এমনিতেই আর্থিক ভারে জর্জরিত রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, সে কারণেই কেন্দ্রের সঙ্গে সমান হারে ডিএ দেওয়া অসুবিধা। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এ দিন বলেন, মেলা-খেলা-উৎসবে খয়রাতি করতে রাজ্যের টাকার অভাব হচ্ছে না। যত অভাব শুধু কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার সময়। তাঁরা জানান, লড়াই এখনও শেষ হয়নি। স্যাটে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় কী ঘোষণা হয় এখন সেটারই অপেক্ষা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More