শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

#মিটু: নেতারা সব নিষ্কলুষ!

বারুদে একটা ফুলকি ফেলেছিলেন তনুশ্রী। তারপর থেকে আগুন জ্বলছেই। কত অবরুদ্ধ অভিযান, ক্রোধ, ঘৃণা জমা হয়েছিল হলিউডের পাশাপাশি বলিউডেরও জেনানা-মহলে, তনুশ্রী মুখ না খুললে বোঝাই যাচ্ছিল না। #মিটু এমন এক আন্দোলনের জন্ম দিল যা ভাবাই যেত না কিছুদিন আগে পর্যন্তও।

লজ্জা, অস্বস্তির হিজাব সরিয়ে মেয়েদের গর্জে ওঠা মুখ সাহস যোগায় আরও মেয়েদের। শুধু স্টুডিও পাড়া নয়, কর্পোরেট জগৎ, সংবাদমাধ্যমের অন্দরমহলকেও কাঁপিয়ে দিল সেই তীব্র স্বর। আক্রান্ত রথী মহারথীরা যতই সাহস সঞ্চয় করে বলুন না কেন, মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁদের চরিত্রে ও সুনামে কালি লেপার অভিসন্ধিতে এ সব আজগুবি অভিযোগ,— দু’একটা তালগাছ নড়েও গেছে। ছাড়ব না ছাড়ব না বলেও শেষে কুর্সি তো ছাড়তে হল একদা বাঘা-সম্পাদক ও অধুনা মোদী-অমাত্য আকবর সাহেবকে। অভিযোগকারিনীদের ‘ষড়যন্ত্রী’ অ্যাখ্যা দিয়েও, আদালতে দেখে নেওয়ার বিস্তর হুমকি দিয়েও পার পেলেন না তিনি।

তিনি পার পেলেন না ঠিকই, কারণ হালে মন্ত্রী হলেও তিনি তো আর আদতে রাজনীতিবিদ নন। রাজনীতির কারবারি হলে বোধহয় এ যাত্রা বেঁচে যেতেন। না হলে বলুন না, সমাজের নানা স্তরে মিটু-র অভিযোগ পৌঁছলেও রাজনীতির আগমার্কা কারবারিরা সকলে এই বিতর্ক থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে পারছেন বা পারলেন কোন জাদুতে? তাঁরা কি সকলে ধোয়া তুলসীপাতা? সব ক্ষেত্রে বিচলন হচ্ছে, শুধু তাঁরা এর বাইরে? ক্ষমতা প্রয়োগের এত সুবর্ণসুযোগ সত্ত্বেও সকলেই সংযমের এক একজন প্রতিমূর্তি? বিশ্বাস করতে কিঞ্চিৎ কষ্ট হয় না?

হয়। আলবাত হয়। দলমত নির্বিশেষে এই ব্যধি যে বিদ্যমান, রাজনৈতিক মতাদর্শের ফারাক ঘিরে তাঁরা এঁর, ওঁর বিরুদ্ধে যতই গলা ফাটান— এই বিষয়ে যে আশ্চর্য মিল, তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরমহলে যাঁদের যাতায়াত আছে, যাঁরা অল্পবিস্তর হলেও এঁদের সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন এবং সান্ধ্যকালীন আড্ডায় গুটিকয়েক চরিত্র নিয়ে (অবশ্যই সকলের সম্পর্কে নয়)রসিয়ে আলোচনা করেন— সে তো বৃত্তের বাইরের লোকজনেরও অজানা নয়। এই বাংলার নেতারাও কি সেই গল্প-কাহিনীর আওতার বাইরে? ওয়াকিবহাল মহল শুনে মুচকি হাসবেন। এবং পরিতাপের বিষয়, ভুক্তভোগী মহিলারাও মুখে কুলুপ এঁটে থাকাকেই নিরাপদ মনে করবেন।

কিন্তু কেন? সহজ উত্তর, সাহসের অভাবেই। প্রাণ সংশয়ে। তাঁরা জানেন, রাজনীতির কারবারিদের সীমাহীন ক্ষমতার কথা। বড়-মেজ-সেজ যে স্তরের নেতাই হোন না কেন, তাঁদের প্রবল প্রতিপত্তি। পাইক-বরকন্দাজ-লেঠেল বাহিনী পরিবৃত সেই নেতাদের ঘাঁটানোর সাহস নেই কারওর। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, এঁদের মধ্যে অনেকেই আবার জনপ্রতিনিধি, যাঁদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতার ছোট-বড় সিংহাসনে চড়িয়েছি।

খারাপ লাগে, দলগুলির সর্বোচ্চ নেতানেত্রীরা যদি সংগঠন ধরে রাখার তাগিদেই অনেক সময় এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন না, বলা যেতে পারে একরকম আপোষ করেন। সে ক্ষেত্রে ভয়, সংশয়, অস্বস্তি, লোকলজ্জা ছেড়ে সার্বিকভাবে গর্জে ওঠার, আওয়াজ তোলার সময় এসেছে মেয়েদের।

শুরুটা অন্তত হওয়া জরুরি।

Shares

Comments are closed.