শুক্রবার, আগস্ট ২৩

দুই শিক্ষকের আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল স্কুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে তুমুল বিক্ষোভ মালদার স্কুলে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় ইংরেজবাজার থানার পুলিশকে। বুধবার দুপুরে মালদা শহরের দক্ষিণ বালুচর এলাকার হিন্দি হাইস্কুলে ঘটনাটি ঘটে। ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের হাত থেকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে বাঁচাতে তাঁদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়। এরপরে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে চলে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ।

বুধবার দুপুর দুটো থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা বিক্ষোভের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বালুচর এলাকায়। পরিস্থিতি সামলাতে আসে পুলিশ। আসেন স্থানীয় কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর স্কুলের দুই শিক্ষককে আটক করে নিয়ে যায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। এরপরই ক্ষিপ্ত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা শান্ত হন।

ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ,  স্কুলের দুই শিক্ষক প্রতিদিনই পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। একা ছাত্রীদের ডেকে শ্লীলতাহানিও করে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এমন ঘটনা চলছিল। কিন্তু ওই দুই শিক্ষকের হুমকির ভয়ে নির্যাতিতা ছাত্রীরা কিছু বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। প্রায় দিনই ছুটির পর ফাঁকা অফিস ঘর অথবা ক্লাস ঘরে ছাত্রীদের ডেকে পাঠিয়ে অশালীন আচরণ করতেন ওই দুই শিক্ষক।

এ দিন পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ওই দুই শিক্ষক দুর্ব্যবহার করেন বলে তাঁদের অভিযোগ। কান্নাকাটি শুরু করে দেয় ওই ছাত্রী।  বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বরে। ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা ছুটে আসেন। তারাও প্রধান শিক্ষকের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এমনকি কয়েকটি ক্লাস রুমের টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের স্কুল থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ইট, পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন,  “ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তা জানার পরই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্ত ঘটনা শোনার পর ছাত্র-ছাত্রীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।”

যদিও এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার রাম কোনও মন্তব্য করেননি।

ডিএসপি বিপুল মজুমদার বলেন, “দুই শিক্ষকের আচরণের প্রতিবাদে হিন্দি হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ কোনও লাঠিচার্জ করেনি। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা পুরোটাই ভিত্তিহীন।”

Comments are closed.