তিন-চারজন মিলে শ্বাসরোধ করেই মেরেছে নরেন্দ্রপুরের দম্পতিকে, নিশ্চিত পুলিশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে নরেন্দ্রপুরের বাগানবাড়িতে বসবাসকারী স্বামী-স্ত্রী প্রদীপ বিশ্বাস ও আলপনা বিশ্বাসকে। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই তাঁদের খুন করা হয়েছে বলেও মনে করছেন গোয়েন্দারা।

    মঙ্গলবার সকালে নরেন্দ্রপুরের তিউড়িয়ায় বাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় ট্রলিব্যাগে বন্দি আলপনাদেবী ও প্রদীপবাবুর খণ্ডিত দেহ। ওই বাড়িটির কেয়ারটেকার হওয়ার সূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে ওই বাড়িতে বাস করছিলেন তাঁরা। প্রতিবেশীরা জানান, রবিবার রাতে শেষবার তাঁদের সাড়া পেয়েছেন। সোমবার দিনভর বারবার ফোন করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁদের পরিজনরা। এরপরেই মঙ্গলবার ছুটে এসেছিলেন প্রদীপবাবুর ভাই জয় বিশ্বাস। বাড়ির মেন গেট ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বাড়ির পিছন দিক দিয়ে ঢুকে জানলা দিয়ে দেখতে পান বিছানায় ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত। কারও সাড়া মেলেনি। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে দুটি ট্রলি ব্যাগ থেকে স্বামী স্ত্রীর খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করে।

    ঘটনার খবর পেয়েই জেলা পুলিশের এসপি রশিদ মুনির খান সহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিক ভাবে বাড়ির মালিক দীপঙ্কর দেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক সহ মোট ১০-১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই খুনের সঙ্গে চার থেকে পাঁচজন জড়িত বলে তাঁদের প্রাথমিক অনুমান। আততায়ীরা ওই দম্পতির পরিচিত হওয়ায় বাড়ির সদর দরজা দিয়েই ঢুকেছিল তারা।৷ প্রথমে খুন হন প্রদীপ বিশ্বাস। তারপর খুন করা হয় আলপনা দেবীকে ৷ তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করারও প্রমাণ মিলেছে ৷ যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পরিষ্কার করে বোঝা যাবে ৷

    পুলিশের দাবি,  কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ জন আততায়ী ছিল । সদর দরজার তালা ভিতর থেকে বন্ধ এবং অক্ষত ছিল । তাই ধরে নেওয়া যায়, পাশের জমি দিয়ে কঞ্চির বেড়া টপকে বাগান বাড়ির মূল কম্পাউন্ড এ ঢোকে আততায়ীরা।  প্রথমে খুন হন প্রদীপবাবু।  ৫১ বছর বয়স হলেও তিনি ৬ ফুটের কাছাকাছি লম্বা এবং মজবুত গড়নের মানুষ। ঘুমের ওষুধ স্প্রে করে ও পরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে । ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর জানা যাবে। আলপনা দেবীর মাথায় ভারী কিছু দিয়ে বাড়ি মেরে বেহুঁশ করা হয় । শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয় । খুলে দেওয়া হয় পরনের পোশাক। তারপর শ্বাস রোধ করে খুন করা হয় ।

    ওই দম্পতির ঘর থেকে একটি টিভি চুরি গিয়েছে। সেই ঘটনা তদন্তের মোড় ঘোরাতেই বলে মনে করছে পুলিশ। আজ ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ফের ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাগানবাড়ির জমিতে একটি তারের জাল তৈরির কারখানা বানানোর কথাবার্তা চলছিল। তার জেরে কোনও বিরোধকে কেন্দ্র করে এই খুন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন ওই দম্পতি। একজনের ফোন পাওয়া গেলেও। অন্যজনের ফোন মিসিং। এই হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের সূত্র ধরেই খুনের তদন্তে ব্রেক-থ্রু হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More