ঘর থেকেও নেই, রাস্তায় ঠাঁই বৃদ্ধার, পেট ভরাতে ভরসা পড়শি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    বিমল বসু, উত্তর ২৪ পরগনা : কখনও রাস্তা লাগোয়া বাসস্ট্যান্ডে, কখনও আবার বন্ধ কোনও দোকানের সামনে। দিনের বেশিরভাগ সময়েই তাঁকে বসে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। কখনও কেউ দিয়ে যান এক টুকরো পাঁউরুটি। কেউ ডাল ভাত। কেউ আবার দয়া পরবশ হয়ে আস্ত একখানা রসগোল্লা। অনিমাকে চেনেন বসিরহাটের হরিশপুরের প্রায় সব বাসিন্দা। অনাথের মা যে তিনি।

    অনিমার বয়স পঁচাশি পার হয়ে গেছে। তবে বার্ধক্যের বারানসীর খোঁজ মেলেনি এখনও। কারণ নিজের ঘরেই যে তিনি ব্রাত্য। তাঁর পাকা বাড়িতে থাকে ছেলে অনাথ, বৌমার নামও অনিমা। শাশুড়ি অনিমা অবশ্য থাকেন রাস্তাতেই।

    বসিরহাট পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশপুরে গিয়ে দেখা গেল, এক বৃদ্ধাকে ঘিরে মানুষের জটলা। বৃষ্টি ভেজা মলিন পোশাকে বৃদ্ধা বসে রয়েছেন এক বন্ধ দোকানের চাতালে। সামনে থালায় ভাত ডাল যেমন রয়েছে, রয়েছে রসগোল্লাও। যে যেমন পেরেছেন ক্ষুন্নিবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন অনিমা বাঁছড়ের।

    বললেন, স্বামী গত হওয়ার পরেই ছেলে-ছেলের বউ বার করে দিয়েছেন বাড়ি থেকে। তারপর থেকে রাস্তাতেই কাটে দিন।  পাড়ার সবাই চেনে। তাঁদের দয়াতেই জুটে যায় দু বেলার খাবার। মাথার উপর ছাদ নেই। তাই রোদ-বৃষ্টিতে যা কষ্ট!

    বৃদ্ধার বাড়িতে গেলে বৌমা অনিমা বলেন, “ভিক্ষা করা ওঁর অভ্যেস। বাড়িতে নিয়ে আসলেও ভিক্ষা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।” বাড়িতে দুটি ঘর। কোথায় থাকতে দেওয়া হয় বৃদ্ধাকে? জানতে চাইলে বাড়ির পিছনে একটি কাঠের মাচান কাঠ ও চট দিয়ে ঘেরা জায়গা দেখিয়ে দেন। বলেন ওখানেই থাকতেন তাঁর শাশুড়ি। বাড়ির পোষ্যরাও যেখানে থাকতে খুব একটা সচ্ছন্দ হবে না।

    জানা গেল বৃদ্ধার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে অনাথ রাজমিস্ত্রির কাজ করে। বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে থাকে। পাড়ার লোকের চাপে পড়ে অবশ্য অসুস্থ বৃদ্ধাকে শেষপর্যন্ত বুধবার ঘরে নিয়ে গেছেন তাঁর বউমা।

    কিন্তু ক’দিন রাখেন এখন সেটাই দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More