শত চেষ্টাতেও বাঁচানো গেল না, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের আগেই মারা গেলেন সোনারপুরের গুলিবিদ্ধ তরুণী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর কাছে হেরে গেল একুশ বছরের তাজা প্রাণ। বুধবারও চলেছিল লড়াই। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে মৃত্যু হল সোনারপুরে গুলিবিদ্ধ তরুণী পূজা মহাজনের। মঙ্গলবার রাতে আচমকাই মোটরবাইক নিয়ে আসা দুই যুবকের গুলিতে জখম হন ঘোষপাড়ার বাসিন্দা পূজা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় পিয়ারলেসে।  তার পর থেকেই আর জ্ঞান ফেরেনি তাঁর।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রথম অস্ত্রোপচারে গুলি সবটা বার করা যায়নি পূজার মাথার ভিতর থেকে।  তা ছাড়া পয়েন্ট ব্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ছোড়া গুলি মাথার ভিতরটা পুরো ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল।  শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের আগেই মৃত্যু হয় তরুণীর।

সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল পূজা। বর্তমানে কাজ করেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। গোড়খারা অগ্রদূত ক্লাবের যে জায়গায় তাঁকে গুলি করা হয় তার থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই বাড়ি পূজার। ঘটনার দিন বাড়িতে তাঁর মা ছিলেন না। তিনি গিয়েছিলেন কামরাবাদে তাঁর বাপের বাড়িতে। রাতে অফিস থেকে ফেরার পথে মায়ের সঙ্গে দেখা করে খাবার কিনে বাড়ি ফিরছিলেন পূজা।  ক্লাবের কাছাকাছি আসতেই তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায় ওই দুই মোটরবাইক আরোহী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই যুবকের সঙ্গে তুমুল কথা কাটাকাটি হচ্ছিল তরুণীর। অভিযোগ, বচসার মধ্যেই এক জন তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আচমকা গুলির শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় লোকজন। তবে তার আগেই চম্পট দেয় অভিযুক্তেরা।

ঘটনার দিন রাতেই পৌঁছয় সোনারপুর থানার পুলিশ। বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপার অজয় প্রসাদও যান ঘটনাস্থলে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন মোটরবাইকে সওয়ার দুই যুবকের মধ্যে একজন ছিল পূজার প্রাক্তন প্রেমিক সৌমেন কয়াল।  অপর জন সৌমেনের সঙ্গী।  দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে সৌমেন।  সে জানিয়েছে, পূজার সঙ্গে তার বছরখানেকের সম্পর্ক। প্রতারণার দায়ে তরুণীর বাবা সনু মহাজনের জেল হওয়ার পর থেকে তাঁদের সংসারের খরচ সৌমেনই টানত।   দুই পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েও নাকি ঠিক হয়ে গেছিল।  কিন্তু, মাস খানেক আগে সৌমেনের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানে পূজা।  তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও বন্ধ করে দেয়। সৌমেনের দাবি, নতুন চাকরি পাওয়ার পর থেকেই পূজার আচরণে অনেক পরিবর্তন আসে। নতুন কারোর সঙ্গে সম্পর্কও নাকি তৈরি করেছিল পূজা।  সেই  আক্রোশ থেকেই প্রাক্তন প্রেমিকাকে খুনের ছক কষে সে।  তার চলাফেরার রাস্তায় নজর রাখা শুরু করে।  সঙ্গে জুটিয়ে নেয় সুকুমারকে।  মঙ্গলবার রাতে পিস্তল নিয়ে তৈরি হয়েই বেরিয়েছিল সে।  পূজার মাথায় গুলিও সেই চালিয়েছিল। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।  তবে শেষরক্ষা হয়নি।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More