শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

হাত, পায়ে পাঁচের জায়গায় ছ’টা আঙুল মানেই অশুভ! কুসংস্কারের বশে সদ্যোজাত শিশুকন্যার আঙুলেই কোপ বসাল মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচের জায়গায় অতিরিক্ত ছ’টা আঙুল নিয়ে জন্মেছিল মেয়ে।সদ্যোজাতকে দেখেই মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল মায়ের। দু’হাত, পায়ে পাঁচের জায়গায় ছ’টা আঙুল মানেই তো অশুভ। মেয়ের বিয়ে হবে কী করে? ছুরি দিয়ে তাই নিজের মেয়ের আঙুলেই বসিয়েছিল কোপ। ফলও হল মারাত্মক। আঙুল কাটার ঘণ্টা খানেক পরেই মৃত্যু হল শিশুকন্যার।

ঘটনা মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডয়া জেলার সুন্দরদেব গ্রামের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই গ্রামে কয়েকঘর আদিবাসীর বাস। সেখানকারই এক আদিবাসী মহিলা তারাবাই শিশুকন্যার জন্ম দেয় ২২ ডিসেম্বর। প্রসবের পরই সে দেখে তার মেয়ের হাত ও পায়ে অতিরিক্ত ছ’টা আঙুল রয়েছে। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে মেয়েকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে এসে এক কোপে অতিরিক্ত আঙুলগুলো কেটে ফেলে। রক্ত বন্ধ করার জন্য ক্ষতস্থানে গোবর লেপে দেয়। এর ঘণ্টাখানেক পরেই মৃত্যু হয় শিশুকন্যার।

পুলিশ জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর খবরও গোপন করে গিয়েছিল তারাবাই। শিশুটির দেহ বাড়ির ভিতরেই পুঁতে দিয়েছিল সে। পরে পরিবারের অন্যদের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শিশুটির দেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার রুচি বর্ধন মিশ্র জানিয়েছেন, ময়নাতন্তের রিপোর্ট আসার পরই যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে তারাবাই। পুলিশকে সে বলেছে, “মেয়ের হাত, পায়ে অতিরিক্ত আঙুল মানেই অশুভ। মেয়েকে বিয়ে দেবো কী করে সেটা ভেবেই আমি আঙুলগুলো কেটে ফেলি।”

কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দেশের নানা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে এখনও মাথা তুলে রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, পঞ্জাবের নানা গ্রামে এখনও আইনের ফাঁক গলে চলছে কন্যাভ্রুণ হত্যা। ভিন্ জাতে বিয়ে করলে এখনও পুড়িয়ে মারা হয় মেয়েদের। পুলিশ জানিয়েছে, খাণ্ডয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সুন্দরদেব। একানকার আদিবাসীদের মধ্যে নানা রকম কুসংস্কার রয়েছে। কন্যাসন্তান নিয়ে ছুঁৎমার্গ, ডাইনি প্রথার চল এখনও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে পুরো মাত্রায় রয়েছে। সেই কুসংস্কার থেকেই নিজের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের আঙুল কেটে ফেলতেও দু’বার ভাবেনি তার মা।

ব্লক মেডিক্যাল অফিসার শৈলেন্দ্র কাটারিয়ার কথায়, কন্যা সন্তান জন্মের পর অনেক বেশি সতর্ক থাকার জন্য গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন সদ্য প্রসূতি কী ভাবে নিজের শিশুকে বাইরে নিয়ে গিয়ে তার আঙুল কেটে ফেলতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Comments are closed.