ভাতের পাতে মায়ের হাতের বেগুন-মৌরলার ঝাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে মাছে-ভাতে বাঙালি। ইলিশের সর্ষে-পোস্ত ভাপা বা চিতল মাছের মুইঠ্যা তো রোজ পাতে জোটে না, তবে ছোট মাছের ঝাল যে কোনও মরসুমেই ভাঙালির ভাতের থালা আলো করে থাকে। উৎসবের দিন হোক বা নিছকই অলস ছুটির দিন, ছোট মাছের ঝাল-ঝোল-অম্বল মানেই এক থালা গরম ভাত সাবাড়। সঙ্গে যদি ঝাল কাঁচা লঙ্কা থাকে তাহলে ব্যাপারটা আরও মাখোমাখো হযে ওঠে।

    চুনো-পুঁটির রোজনামচা থেকে বার হলে, মৌরলা মাছ কিন্তু এখন জাতে বেশ উঁচু। ভালো রকম গাঁটের কড়ি খসালেই বাজারের থলেতে বেশ শোভা পায় ছোট-মাঝারি-বড় মৌরলা। পেঁয়াজ দিয়ে লাল লাল তেল-ঝাল হোক বা বেগুন দিয়ে রসা— মৌরলার কোনও বিকল্প নেই। পয়লা বৈশাখ হোক, জামাই ষষ্ঠী বা ভাইফোঁটা, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণে বড় মাছের পাশাপাশি বেশ জায়গা করে নিয়েছে ছোট মাছের পদও।

    তবে, ছোট মাছ রান্নার ঝক্কি আছে। সে পুঁটি হোক, বা মৌরলা। মায়ের হাতের স্বাদ আনতে বেশ হাতযশ দরকার। পুরনো দিনের রেসিপি ফের একবার ঝালিয়ে নিতে দেখুন কীভাবে রাঁধবেন বেগুন-মৌরলার ঝাল। আপনার প্রিয় মানুষের মুখে হাসি ফুটবেই গ্যারান্টি।

    এক ঝলকে দেখে নিন রেসিপি—

    বেগুন-মৌরলার ঝাল রাঁধতে যা যা দরকার:

    উপকরণ— ডুমো ডুমো করে বা লম্বা ফালি করে কাটা বেগুন (৩৫০ গ্রাম), মৌরলা মাছ, নুন স্বাদমতো, হলুদ দেড় চা চামচ, আদা ও জিরে বাটা তিন চা চামচ, লাল লঙ্কার গুঁড়ো এক চা চামচ, রসুন বাটা (তিন কোয়া), ধনেপাতা কুচি, একটা বড় পেঁয়াজ কুচোনো, লঙ্কা (৪-৫টা), তেজ পাতা-১টা, শুকনো লঙ্কা-১টৈ, এক চা চামচ কালো জিরে, দেড় চা চামচ গরম মশলা গুঁড়ো।

    প্রণালী—  মৌরলা মাছ ভাল করে ধুয়ে নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখুন। এ বার কড়াইতে তেল দিয়ে আধ ভাজা করে তুলে রাখুন। বেশি লাল করে ভাজবেন না। একটা বাটিতে বেগুন ও সব উপকরণ মিশিয়েনিন। এতে বেগুন নরম হয়ে ম্যারিনেটেড হয়ে থাকবে এবং সময়ও কম লাগবে। বেগুনের সঙ্গে অল্প নুন, হলুদ, লঙ্গা গুঁড়ো, আদা-জিরে বাটা, কাঁচা লঙ্কা, কুচনো পেঁয়াজ আর সর্ষের তেল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে রাখুন। 

    এ বার কড়াইতে তেল গরম করে, তাতে একে একে তেজ পাতা, কালো জিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। সামান্য নেড়ে তাতে মাছগুলো দিয়ে দিন। আঁচ একটু কমিয়ে বেগুন-সহ ম্যারিনেটেড সমস্ত উপকরণ ঢেলে দিয়ে নাড়তে থাকুন। প্রয়োজনে টম্যাটো দিতে পারেন। সব্জি একটু নরম হলে, তাতে এক কাপ মতো জল ঢেলে মাঝারি আঁচে ভাপে বসিয়ে দিন। ৫-৬ মিনিট পরে কড়াইয়ের ঢাকনা তুলে দেখুন জল শুকিয়ে বেশ মাখো মাখো হয়ে এলে তাতে চিনি দিন। নুন দেখে নিন। ধীরে ধীরে নাড়ুন, কারণ বেশি জোরে খুন্তি চালালে মাছ ভেঙে যেতে পারে। বেশ ভাজা ভাজা হয়ে এলে ধনেপাতা কুচি ও গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। অনেকেই স্বাদে বদল আনতে তেঁতুল যোগ করেন। এ বার গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More