বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫
TheWall
TheWall

বায়োপিকের উপার্জন চেল নদীতে ব্রিজ তৈরির জন্য দিতে চান পদ্মশ্রী করিমুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : না হলেও প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ মানুষ। প্রতিদিন যাঁদের চেল নদী পার হয়ে যেতে হয় মালবাজার থেকে জলপাইগুড়ি, বা জলপাইগুড়ি থেকে মালবাজার, বা ক্রান্তি। কেউ যান রুটিরুজির জন্য। আবার কেউ পড়াশোনা বা অন্য কাজে। একটা ব্রিজ হলে যে বড্ড সুবিধা হয় তাঁদের। প্রতিদিনের শ্রম কিছুটা অন্তত কমে।

এই মানুষগুলির মুখের দিকে তাকিয়ে সরকারের কাছে বহুবার একটা সেতু তৈরি করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু হয়নি। তাই এ বার নিজের বায়োপিক থেকে উপার্জন হওয়া টাকায় সেই কাজটা করতে চান পদ্মশ্রী করিমুল হক। বললেন, ‘‘আমার বায়োপিক থেকে আমার উপার্জনের টাকা চেল নদীর ব্রিজ তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তুলে দেব।’’

ক্রান্তির ধওলাবাড়ির দুর্গম এলাকা থেকে অসুস্থ মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পারেননি। চোখের সামনে বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছিল মায়ের। মৃতদেহের সামনে বসে শপথ নিয়েছিলেন গ্রামেৱ আর কাউকে এ ভাবে বিনা চিকিৎসায় মরতে দেবেন না। এরপরেই একটি মোটরবাইক কিনে সেটিকে অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন জলপাইগুড়ির করিমুল হক। এলাকায় পরিচিত হয়ে যান অ্যাম্বুল্যান্স দাদা নামে। দিন নেই, রাত ‌নেই, শীত- গ্রীষ্মেরও তোয়াক্কা নেই, যখন যেখানে ডাক পড়েছে ছুটে গেছেন। দুর্গম পথ পেরিয়ে অসুস্থ মানুষকে পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে। সে কাজের স্বীকৃতিতে পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কারও। অ্যাম্বুল্যান্স দাদার জীবন নিয়ে ছবিও তৈরি হচ্ছে বলিউডে।

রবিবার জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন বলিউডের পরিচালক বিনয় মুদগল। অ্যাম্বুল্যান্স দাদাকে নিয়ে ছবি করছেন তিনিই। গত এক বছর ধরে করিমুলের লড়াই সংগ্রামকে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরতে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন চিত্রনাট্যকার-পরিচালক বিনয়। জানালেন, লোকেশন নির্বাচন হয়ে গেছে। আগামী বছরের শুরুতেই শুরু হচ্ছে শ্যুটিং। তবে নায়ক নির্বাচন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পরিচালকের কথায়, ‘‘করিমুল মানুষটা সাধারণ, কিন্তু তাঁর কাজ যে অসাধারণ। যিনি তাঁর ভূমিকায় অভিনয় করবেন, তাঁকে তো বেছে নিতে একটু সময় লাগবেই।’’

বিনয় বলেন, ‘‘চিত্রনাট্য লেখার আগে ওঁর জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত হতে বেশ অনেকটা সময় ওঁর সঙ্গে কাটিয়েছি। দেখেছি মানুষের বিপদে কীভাবে এগিয়ে যান উনি। শীতের রাত। ঘড়ির কাঁটায় দেড়টা। তখন ডাক এসেছে, হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে কাউকে। উনি বেরিয়ে গেলেন। ওঁর জীবনটাই একটা ছবির মতো।’’

মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই যে করিমুলের একমাত্র কাজ সেটা এতদিনে বুঝে গেছেন বলিউডের এই পরিচালক। তাই সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর পাশে বসে যখন স্বপ্নের কথা শোনাচ্ছেন করিমুল, তখন আন্তরিকভাবে সেই স্বপ্নপূরণের আশা জুগিয়ে যাচ্ছিলেন পরিচালক। করিমুল তখন শোনাচ্ছেন, চেল নদীর উপর একটা সেতু না থাকায় কেমন দুর্বিষহ কষ্টের মধ্যে পড়তে হয় এলাকার মানুষদের। বলছেন, বায়োপিকের টাকা দিয়েও যদি একটা সেতু হয়, সেই চেষ্টার কথা। পরিচালক তখন বলছেন, ‘‘এলাকায় একটা হাসপাতাল করার ইচ্ছে আছে করিমুলের। আছে স্কুল ও বৃদ্ধাশ্রম করার ইচ্ছে। আশাকরি ওঁর এ সমস্ত ইচ্ছেই বাস্তবায়িত হবে। সেদিনটা খুব দুরে নয়।’’

২০২০ সালে শুরু করে সেই বছরেই শ্যুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়ে গেলেন পরিচালক বিনয় মুদগল। তারপর ছবি আর বাস্তবের মধ্যে মিল খোঁজার পালা।

Comments are closed.