সোমবার, অক্টোবর ১৪

টানা বৃষ্টিতে জল বাড়ছে নদীতে, পুজোর মুখে প্লাবিত রাজ্যের বহু এলাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পুজোর মুখে বন্যার আশঙ্কা রাজ্যের একাধিক জেলায়।

মুর্শিদাবাদ জেলায় হু হু করে বাড়ছে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর জল। ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে সুতি ও শামসেরগঞ্জের বেশ কিছু এলাকা। সব থেকে খারাপ অবস্থা সুতির ঠাকুরপাড়া এবং শামসেরগঞ্জের কামালপুর ও শিবপুরের। বেশ কয়েকটি গ্রাম জলমগ্ন। পুজোর আনন্দ ভুলে এখন দুশ্চিন্তার প্রহর গুনছেন মানুষ।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি এলাকাতেই বাঁধের অবস্থা খারাপ। তাই আরও এলাকা প্লাবিত হতে পারে যে কোনও সময়। এ দিকে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় খুলে দেওয়া হল ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯ টি গেট ৷ ফলে দক্ষিণবঙ্গের অনেকাংশ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মালদাতেও বিপদসীমা ছাড়িয়ে ফুঁসছে গঙ্গা ও ফুলহার। টানা বৃষ্টির জেরে নদীর জল ঢুকেছে একাধিক ব্লকের সংরক্ষিত এবং অসংরক্ষিত এলাকায়। বাড়ি ঘর ছেড়ে হাজার হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে উঁচু জায়গায়। কালিয়াচক ৩ ব্লকের পারদেনাপুর, শোভাপুর ও কালিয়াচক ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। প্রশাসনের তরফে জানানো হচ্ছে, জেলায় প্রায় ৫০ হাজার পরিবার জলমগ্ন। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা আরও বেশি। প্রশাসনের তরফে এলাকার স্কুল ও ফ্লাড সেন্টারগুলিতে দুর্গত পরিবারগুলিকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে জেলার মানিকচক ব্লকের একাধিক অঞ্চল ও রতুয়া ১ ব্লকের বিলাইমারি, কাহালা, দেবীপুর, রতুয়া ও বাহারাল।

মালদা শহরের একাধিক এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মালঞ্চপল্লী ,কৃষ্ণপল্লী এলাকায় অধিকাংশ ঘরবাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। ওই এলাকার শতাধিক বাসিন্দা স্থানীয় একটি হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ দিকে ২০০০ সালের পর এ বার ফের বন্যার আশঙ্কা বীরভূমের মহম্মদবাজারে। গত এক সপ্তাহ ধরে ঝাড়খন্ড এবং এ রাজ্যে চলা বৃষ্টিতে দ্বারকা নদীর জল বিপদসীমার উপরে বইছে। ডেউচা জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে ভাঙতে শুরু করেছে নিচু এলাকার ঘরবাড়ি। দ্বারকা নদীর জল ঢুকে পুরাতন গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলবেড়িয়া বাগাতিপাড়ায় এখনও পর্যন্ত ১৩ টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। জল কমলে আরও বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মহম্মদ বাজার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক আশিস মণ্ডল।

Comments are closed.