ঝলমলে থাই ডাম্পলিং, মাংসের পুরে ঠাসা মোমো, প্রি-পুজো সেলিব্রেশনে বাঙালির নয়া ঠিকানা ‘মাস্টার ডিমসাম’

চৈতালী চক্রবর্তী

প্রেম মানেই পাড়ার মোড়ের ফুচকা, ভেলপুরি থেকে পকেট বুঝে বিরিয়ানি, চাইনিজের আদর। তবে সেই হালফিলের চাউমিন, মোমো খেতে আর ভাল লাগছিল না সোহিনীর। প্রেমিক দেবার্কর কাছে আবদার করেছিল উইকেন্ডে নতুন স্বাদের চাইনিজ খাবে। পরিবেশ হবে ছিমছাম, আড্ডাও জমবে আবার খাবারে থাকবে খাস চিনা পাড়ার গন্ধ। আবদার শুনে মাথায় হাত পড়লেও দেবার্ক খুঁজে বার করে এমন এক রেস্তোরাঁ, যেখানে মোমো-নুডলস থেকে সুয়ে মাইয়ের ছড়াছড়ি। অভিজ্ঞ চিনা শেফের রান্নার তারিফ করতে করতে জমে ওঠে প্রেম।

সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের বিবেকানন্দ পার্কে এই রেস্তোরাঁই এখন বাঙালির অতি আপন  ‘মাস্টার ডিমসাম’। চিনা পদ ‘বাওজি’ এবং ‘জিয়াওজি’র মতোই পেটে পুর ঠাসা হরেক রকম মোমোর স্বাদ চাখতে ছুটতেই হবে এই রেস্তোরাঁয়। পছন্দের ডিমসামের স্বাদ ও গন্ধ নিমেষের মধ্যে উড়িয়ে নিয়ে যাবে চিনের কোনও নামজাদা রেস্তোরাঁ পাড়ায়।

পুজো আসছে। এই সময় বাঙালির ব্যস্ততা তুঙ্গে। কেউ পাড়ার পুজোর উদ্যোগ-আয়োজনে ব্যস্ত, কেই কেনাকাটিতে। জমিয়ে চলছে পুজোর বাজার। তবে, বাঙালির পুজো মানেই শুধু নতুন পোশাকের বাহার নয়, পেটপুজোটাও একটা ফ্যাক্টর বটে। চর্ব-চোষ্য পেটে না পড়লে তো পুজোর আনন্দটাই মাটি। বাঙালি যেমন বারো মাসে তেরো পার্বণে আছে, তেমনি তেরো পার্বণে তেত্রিশশো রকম ভোজনেও আছে। আর আনন্দের উৎসবে ট্রাডিশনাল ডিশ থেকে বেরিয়ে এসে কনন্টিনেন্টালের স্বাদ চলতেই পারে। কলকাত্তাইয়া বাঙালির সেই চাহিদা ষোলোকলায় পূর্ণ করবে ‘মাস্টার ডিমসাম’ ।

সাম্বাল সসে রান্না গ্রিলড ফিশ বলে যখন পুরুষ্টু মৎস্যখণ্ডটি আপনার পাতে পড়বে,  তখন মন আর জিভ দুই মজে যাবে। নুডলসের স্যুপে ডুবে থাকা মিট বল চপস্টিকে জড়াজড়ি করে স্বাদকোরকে তুফান তুলবে গ্যারান্টি। চিনা খাবারের টানে ‘মাস্টার ডিমসাম’-এ এসে বাঙালি তাই চাখছে সয়াস্নাত চটপটা হংকং স্টাইল জিওজা। মাংসের বা সব্জির পুরে পুষ্ট জমজমাট মোমো। দক্ষিণ চিনের স্পেশাল ডাম্পলিং থুড়ি ব্লেন্ড করা সব্জির সঙ্গে মিহি মাংসের (বিশেষত পর্ক) পুর কোনও এক নাম না জানা সসের সঙ্গে মাখামাখি হয়ে রসনায় ঝড় তুলছে। খাস থাইল্যান্ডের স্মৃতি মাখা ঝালঝাল থাই ডাম্পলিং-ও বাঙালির জিভে খুলছে।

দ্য ওয়াল পুজো ম্যাগাজিন ১৪২৫ পড়তে ক্লিক করুন

খাবারের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে হ্যাংআউটেরও আদর্শ জায়গা ‘মাস্টার ডিমসাম’। কলকাতায় প্রথম এই ট্রাডিশনকে বয়ে নিয়ে আসার কারিগর দু’জন মানুষ। দেবাদিত্য এবং শিলাদিত্য চৌধুরী।  অভিজ্ঞ শেফ পিটার চিন রয়েছেন এই ডিমসাম তৈরির দায়িত্বে। ভোজন রসিকদের চাহিদা মেটাতে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে মাস্টার ডিমসামের দরজা। তাহলে প্রাক-পুজো সেলিব্রেশনে পাতে পড়ুক গরম গরম ডিমসাম!

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.