বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

হাপিত্যেশ করে বসে আছেন মাস্টারমশাইরা, কিন্তু পড়ুয়া কই ?

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: স্কুলের মাথায় ছাদ আছে। চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ-ডেস্ক, কম নেই কোনওটার। আছেন দু- দু’জন শিক্ষকও। কিন্তু যাদের জন্য এত আয়োজন সেই পড়ুয়ারাই নেই পুরুলিয়া শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাওয়ারি মহল্লা উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খাতায়-কলমে এখন এই স্কুলে চারজন পড়ুয়া। তবে এ বছর তারা একদিনও স্কুলে আসেনি। তাই ক্লাস নেই, পরীক্ষা নেই, নেই মিডডে মিলও। শিক্ষকরা আসেন। এসে বসে থাকেন। তারপর ফিরে যান। তাঁদের দাবি, কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েছেন। কিন্তু লাভ হয়নি কোনও।

পুরুলিয়া শহরের নীলকুঠি ডাঙ্গা মসজিদের একটি ঘরে হাওয়ারি মহল্লা উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে বছর দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সে বছরই প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এই স্কুলের। সেই স্কুলেই এখন একজন পড়ুয়াও নেই। শিক্ষক মনোয়ার জাভেদ জানান, ২০১৭ সালে ভর্তি হয়েছিল মাত্র একজন পড়ুয়া। ২০১৮ সালে আর কেউ ভর্তি হয়নি। খাতায়-কলমে অবশ্য তৃতীয় শ্রেণীতে তিনজন ও চতুর্থ শ্রেণীতে একজন পড়ুয়া রয়েছে। কিন্তু এ বছর একদিনও স্কুলে আসেনি তারা। তিনি বলেন, “স্কুলে রান্নাঘর নেই, শৌচাগার নেই। মসজিদের শৌচাগার ব‍্যবহার করেন শিক্ষকরা। শৌচাগার না থাকার জন্যই পড়ুয়ারা স্কুল ছেড়েছে বলে মনে হয় আমাদের।”

অন্য শিক্ষক মহম্মদ আব্বাস বলেন, “মিটিং করে, রেজোলিউশন পাস করে অন্য কোনও বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্তির প্রস্তাবও জেলা শিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি।”

শিক্ষকদের মতোই হতাশ স্কুলের একসময়ের মিডডে মিল রাঁধুনি। “একসময় ৪০-৫০ জনের মিডডে মিল রান্না করতাম। গত আট মাসে একদিনও রান্না হয়নি মিডডে মিল।” বলছেন, শেখ অজিফা।

জেলা শিক্ষা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন তাঁরা। কবে স্কুলটা আবার স্কুলের মতো হবে, তাঁদের গলার স্বর ছাপিয়ে যাবে বাচ্চাদের গলার আওয়াজে, শূন্য ব্ল্যাকবোর্ডে আঁচড় পড়বে চকের, সে দিকেই এখন তাকিয়ে বসে হাওয়ারি মহল্লা উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

Comments are closed.