শনিবার, মার্চ ২৩

পুরুষেরা ডায়েট করেন নিয়ম মেনে, ভুঁড়িও কমান চটজলদি! মেয়েরা শুনছেন তো?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েরা যদি রাগ না করেন, তাহলে শুনে রাখুন পুরুষেরা কিন্তু মহিলাদের থেকে অনেক বেশি বাধ্য। কারণটা কিছুই নয়, বিষয়টা আসলে ভুঁড়িগত! ডায়েটের পিছনে পুরুষেরা যতটা মনোযোগী, মেয়েরা তার সিকিভাগও নয়। এমনটাই জানাচ্ছে সমীক্ষা।

আয়না কখনও মিথ্যা কথা বলে না। মধ্য ত্রিশে পৌঁছে বঙ্গ নারী হোক বা মধ্য চল্লিশের পুরুষ, আয়নাকে মিথ্যেবাদি বলতে সাধ জাগে সবারই। কারণ একমাত্র আয়নাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় চেহারার আমূল পরিবর্তন। তবে, পুরুষেরা যদি একবার মনস্থির করেন ডায়েট করে ভুঁড়ি কমাবেন তাহলে সেটা তাঁরা করেই থাকেন। মেয়েদের কাছে ডায়েট মানেই বিরাট ব্যাপার। আজ করছি, কাল করব বলে এড়িয়ে যান অনেকেই।

এই ডায়েটে অনীহার সঙ্গে যদি আপনার ভাবনার মিল থাকে তাহলে জেনে নিন বিজ্ঞানীরা কিন্তু মেয়েদের এই গোপন ভাবনার কথা জেনে ফেলেছেন। কোপেনহেগেনের ‘ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম’-এর একদল গবেষক ২২০০ মহিলা ও পুরুষকে নিয়ে এই সমীক্ষা চালিয়েছেন। এই বিরাট বাহিনীর প্রত্যেকেরই ওজন অতিরিক্ত। আট সপ্তাহ ধরে তাঁদের উপর চলে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখার ডায়েট। সময় শেষে দেখা যায় বেশিরভাগ পুরুষই প্রায় ১৬ শতাংশ ওজন কমিয়ে ফেলেছেন। চটজলদি যেমন তাঁদের মেদ ঝরেছে, তেমনি অবিশ্বাস্য রকম উন্নতি হয়েছে তাঁদের হার্টের, বেড়েছে পৌষ্টিকতন্ত্রের ক্রিয়া, কমেছে ডায়বিটিসের ঝুঁকি। পাশাপাশি, মেয়েদের ওজন কমেছে পুরুষদের তুলনায় অনেক কম।

গবেষকেরা অবশ্য এর পিছনে অন্য ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাঁদের মতে, পুরুষদের মেদ প্রধাণত জমে দেহের মধ্যপ্রদেশে। যাকে আমরা বলি Belly Fat। আর মেয়েদের মেদ জমে মূলত নিতম্ব, থাই এবং মুখে। যেটা ঝরতে অনেক বেশি সময় লাগে।

মেয়েদের মধ্যে বিশেষত বাঙালি মেয়েদের মধ্যে চল্লিশ পার করে মুটিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে শরীরের মধ্যপ্রদেশ স্ফীত হওয়ার প্রবণতা মারাত্মক। সেটা সম্ভবত বাঙালি ললনার শরীরের ধাত, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের প্রতি অনীহা এবং নিজের প্রতি যত্নের অভাবে। অনেকে বলে থাকেন, বয়স হলে স্বাভাবিক নিয়মে শরীরে একটু গত্তি লাগে, সেটা দেখতে মানানসইও লাগে। হয়তো তা কিছু অংশে সত্যি। কিন্তু সামান্য মেদসঞ্চয় এবং শরীর ফুলেফেঁপে ওঠার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এতে যেমন কাজকর্মে সমস্যা হয়, শরীরে নানা রকম রোগ বাসা বাঁধে তেমনই নিজের আত্মবিশ্বাসও চিড় খায়।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই ভুঁড়ি বা belly fat যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘Intra-Abdominal Fat’ পেটের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি করে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অস্থিসন্ধির সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মোটা হলে। এমনকি, একাধিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, ক্যানসারের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে স্থূলতার।

কোপেনহেগেনের বিজ্ঞানীরা সমীক্ষায় দেখেছেন, পুরুষেরা ডায়েট মেনে চটজলদি সাড়ে এগারো কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন। মেয়েরা যেখানে ১০ কেজি ওজন কমাতেও হিমশিম খেয়েছেন। এর প্রধান কারণই হল আলস্য এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের অভাব। গবেষকদের মতে, জিনঘটিত কারণে এবং গঠনগত কারণে অনেকে মোটা হয়। সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বাকি সব কারণ আমাদের নিজের সৃষ্টি করা। যেমন, খাদ্যাভ্যাস, কায়িকশ্রম না-করা, থাইরয়েড, স্ট্রেস, হরমোন এবং জীবনধারণ। এমন কিছু খাবার আমরা নিয়মিত খাচ্ছি যা দেহের মধ্যে প্রচুর ফ্যাটের জন্ম দিচ্ছে। তাই সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি, ইচ্ছাশক্তিও ভুঁড়ি কমানোর অন্যতম টোটকা।

অতএব, মহিলারা আজ থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়ুন। সামনেই তো পুজো। তার আগেই কমাতে হবে ভুঁড়ি। শুধু পুরুষ কেন, মহিলারাও দেখিয়ে দিন তাঁরাও কম যান না কিছুতেই!

Shares

Comments are closed.