কৃষ্ণেন্দু -নীহারের হাতাহাতিতে সরগরম ইংরেজবাজার পুরসভা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা:  বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বচসা এবং ধস্তাধস্তিতে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল ইংরেজবাজার পুরসভায়। মঙ্গলবার দুপুরে পুরসভার অফিস ঘরেই শুরু হয় গোলমাল। চেয়ারম্যান নীহার ঘোষের অভিযোগ,  সকলের সামনে অফিস ঘরে প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি তাঁকে ধাক্কা মেরেছেন। অশ্লীল ভাষায় কথা বলেছেন। প্রাক্তন চেয়ারম্যান  তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর  কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর পাল্টা অভিযোগ, “এলাকার নোংরা  পরিষ্কার না হওয়া, পুরসভার মাসিক বৈঠক না হওয়া, এই রকমই কিছু অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। উনি কোনও কথাই শুনতে চাননি। গায়ে হাত তোলা অথবা অশ্লীল ভাষায় কথা বলার যে অভিযোগ চেয়ারম্যান করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

    দলীয় কর্মসূচিতে  মালদায় গিয়ে  তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার সতর্ক করেছেন দলের জেলা নেতৃত্বকে। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর সেই নির্দেশ কোনওভাবেই কাজে আসছে না মালদায়। তার উদাহরণ ফের উঠে এল ইংরেজবাজার পুরসভা চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যানের কাজিয়ায়।

    মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বর্তমান চেয়ারম্যান নীহার ঘোষকে শহরের সার্বিক অনুন্নয়ন নিয়ে অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু সেই সময় চেয়ারম্যান নীহার ঘোষকে তাঁর অফিস ঘরে না পেয়ে অসহিষ্ণু হয়ে ওঠেন কৃষ্ণেন্দুবাবু। এর পরেই ভাইস চেয়ারম্যান বাবলা সরকারের ঘরে চেয়ারম্যানকে দেখে আচমকাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরি। অভিযোগ, সেই মুহূর্তেই ভাইস চেয়ারম্যানের ঘরে ঢুকেই অশালীন ভাষায় কথা বলে চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান প্রাক্তন চেয়ারম্যান। পুরসভা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার ঘোষের অভিযোগ,  কৃষ্ণেন্দুবাবু তাঁর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন। অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছেন এবং সবার সামনে তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন। তিনি বলেন, “প্রাক্তন চেয়ারম্যানের কাছে এমন ব্যবহার পাব তা আশা করতে পারিনি। তৃণমূল দলে এমন লোক থাকা আশ্চর্যের বিষয়। আমি ভাবতে পারছি না আমার সাথে উনি এরকম দুর্ব্যবহার করবেন। পুরো বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব।”

    এ দিকে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে গোটা শহরের কোথাও আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে না। যত্রতত্র নোংরা আবর্জনার স্তূপ গড়ে উঠেছে। পুরসভার বাজেট হয় না। বিওসির বৈঠক হয় না। উন্নয়নের কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর সেই সব বিষয় নিয়ে পুরসভায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু তাঁকে অফিস ঘরে পাইনি। ভাইস চেয়ারম্যানের ঘরে উনি বসেছিলেন। অভিযোগ নিতে চাইছিলেন না। তাঁর সঙ্গে কোনও দুর্ব্যবহার করা হয়নি। এখন নিজের দোষ ঢাকতেই পাল্টা ভিত্তিহীন কথা বলছেন।”

    তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নুর বলেন, “চেয়ারম্যান, প্রাক্তন চেয়ারম্যানের মধ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে কিছু জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More