শনিবার, অক্টোবর ১৯

বৃষ্টি থামলো, কিন্তু জলপাইগুড়ির সব হাসপাতালে এখন শুধু জ্বরের রোগী

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বৃষ্টির পর রোদ ঝলমলে আকাশ দেখা দিতেই ঘরে ঘরে জ্বর গোটা জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে। প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে হাসপাতাল গুলিতে। শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রেহাই নেই প্রায় কারও। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সিংহভাগই জ্বরে আক্রান্ত। স্বাস্থ্য কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিলি করছেন প্যারাসিটামল ট্যাবলেট। জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়েছিলেন জেলার ৮ জন। এ বার ২৬ জুলাই পর্যন্ত সেই সংখ্যা ৪ জন।

২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৭ জন। এ বার ২৬ জুলাই পর্যন্ত জলপাইগুড়িতে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন।

জলপাইগুড়ির মালকানি এলাকার বাসিন্দা হরিমোহন রায় জানান গত সাত দিন ধরে জ্বর কিছুতেই কমছে না তাঁর। তাই জাক্তার দেখাতে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। তাঁর অবস্থা বুঝেই এ দিন তাঁকে  হাসপাতালে ভর্তি করে নিয়েছেন ডাক্তারবাবুরা।

গজলডোবার বাসিন্দা কৃষ্ণা মণ্ডলও টানা ১০ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। সঙ্গে মাথায় ও সারা গায়ে ব্যথা এবং সর্দি। তাই আজ সকালে তাঁকে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে নিযে যান তাঁর পরিজনেরা।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার জগন্নাথ সরকার বলেন, “এই বছর কমন ভাইরাল ফিভারে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এনেক বেশি। কিন্তু আশার কথা ভেক্টর বর্ন ডিজিজ যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, এনকেফেলাইটিস বা চিকুনগুনিয়া এই সব রোগ বাড়েনি। বরং কম আছে।” তবুও তিনি জ্বর এলেই শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বেশি করে জল ও ফলের রস খাওয়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বর না কমলে অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বরের মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে সচেতনতা শিবির। নিজের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে সচেতনতা প্রচারে নেমেছেন রাজগঞ্জের প্রতাপ সংঘ ক্লাবের মহিলা সদস্য রাও। পতঙ্গ বাহিত রোগ নিয়েও প্রচার শুরু হয়েছে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায়।

Comments are closed.