হান্দওয়ারে টহল দেওয়া সিআরপিএফের গাড়িতে ফের হানা, শহিদ আরও ৩ সেনা, আহত ৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের হান্দওয়ারায় ফের জঙ্গি হামলা! এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর, অন্তত তিন জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। আহত সাত জন। সোমবার বিকেলে টহল দেওয়া অবস্থায় সিআরপিএফের বাহিনীর ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। নতুন করে শুরু হয়েছে গুলির লড়াই। সেনার টহল-গাড়িতে এই হামলা অনেককেই মনে করাচ্ছে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া পুলওয়ামা-কাণ্ডের কথা। সেনা জওয়ান বোঝাই কনভয়ে সেবার হামলা করেছিল জঙ্গিরা।

    জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়ারাতে শনিবার ভোররাত থেকে গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে। এনকাউন্টারের সময় স্থানীয় নাগরিকদের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিল জঙ্গিরা। মহিলা ও শিশু-সহ মোট ১১ জনকে বন্দি বানিয়েছিল তারা।

    গতকাল প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রবিবার সকালে থেমেছিল গুলির লড়াই।  রাতের পর থেকে গুলি ছোড়ার পরিমাণ কমিয়ে দেয় জঙ্গিরা। যা দেখে সেনাবাহিনী মনে করছিল, মজুত অস্ত্র ফুরিয়ে আসছে জঙ্গিদের। সকালের দিকেই দুই জঙ্গিকে নিকেশ করে সেনাবাহিনী।

    কিন্তু সোমবার ফের ঘটে গেল আচমকা আক্রমণ। নিহত হলেন আরও তিন জওয়ান।

    এপ্রিলের ২৮ তারিখ গোপন সূত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে খবর আসে যে হান্দওয়ারার কাছে চাঙ্গিমুল্লাতে একটি বাড়িতে ঘাঁটি গেড়েছে কয়েকজন জঙ্গি। খবর পেয়েই অভিযানের ছক কষে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ১ মে রাত ৩টে নাগাদ প্রথম আঘাত হানা হয় জঙ্গিদের উপর। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই পাল্টা জবাব দেয় জঙ্গিরাও। আরও কিছু সূত্রে হাতে আসায় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে ২ মে-ও যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। ৩ তারিখ সকাল পর্যন্ত চলে অভিযান।

    আরও পড়ুন: শহিদ মেজর অনুজ: সেনা অফিসার হতে চাইত, প্রিয় সিনেমা ছিল ‘ডাই হার্ড’, চোখের জলে মেধাবী ছাত্রকে মনে করছে পাঞ্জাবের স্কুল

    কাশ্মীর পুলিশের একটি দল সফলভাবে জঙ্গিদের কবলে থাকা ১১ জন সাধারণ নাগরিককেই উদ্ধার করেন। তবে এই সময়েই এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে জঙ্গিরা। তাদের তরফ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ধেয়ে আসে সেনা এবং পুলিশের উপর। এই ঘটনায় শহিদ হয়েছেন পাঁচজন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শাকিল কাজি এবং রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ২১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্নেল আশুতোষ শর্মা, মেজর অনুজ সুদ, নায়েক রাজেশ কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ সিং—এই পাঁচজন শহিদ হয়েছেন। খতম হয়েছে দুই জঙ্গিও।

    লকডাউন পর্বে একাধিক সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কাশ্মীরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরে খতম হয়েছিল ১৫২ জন জঙ্গি। এর আগে ২০১৮ সালে মোট ২১৫ জন জঙ্গিকে নিকেষ করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে নিহত হয়েছিল ২২ জন জঙ্গি। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে সংখ্যাটা কমে হয় ১১। তবে চলতি বছর এপ্রিল মাসে নিহত হয়েছে ২৮ জন জঙ্গি, যা প্রায় মোট জঙ্গি নিকেষের ৪৬ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ওই মাসে নিহত হয়েছিল ৩৯ জন জঙ্গি।

    আরও পড়ুন: মেজর অনুজ তিন মাস আগে বিয়ে করেছিলেন, ছেলের মৃত্যুতেও গর্বিত ব্রিগেডিয়ার বাবা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More