শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

কুড়িয়ে আনা ডিম ফুটে বেরোল তিনটি ময়ূরছানা! হাঁসদা পরিবারের পোষ্য দেখতে জমেছে ভিড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গলে খেলতে গিয়ে চারটি পাখির ডিম কুড়িয়ে পেয়েছিল কিশোর সুখলাল হাঁসদা। কৌতূহলের বশে বাড়ি নিয়ে এসেছিল সেগুলি। তার বাবা ঠাকুর হাঁসদার অভিজ্ঞ চোখ চিনে নিয়েছিল, এগুলি ময়ূরের ডিম। তখনই ঠাকুর ভেবেছিলেন, ডিমগুলি যত্নে রাখলে জন্ম নিতে পারে ময়ূর ছানা। হলও তাই। জঙ্গলে কুড়িয়ে পাওয়া সেই ময়ূরের ডিম থেকে জন্ম নেওয়া তিনটি ময়ূরকে লালন পালন করছেন তিনি। তারা বড় হলে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসা হবে তাদের।

আসানসোলের ঢাকেশ্বরীর বেলডাঙা আদিবাসী গ্রামে এখন সেই ময়ূরছানাগুলিকে বাড়িতে লালন-পালন করেছে হাঁসদা পরিবার। আর বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে তাদের দেখতে আসছেন এই গ্রামে। ঠাকুর হাঁসদা জানালেন, চলতি বছরের জুন মাসে তাঁর ছেলে সুখলাল ঢাকেশ্বরী জঙ্গল থেকে চারটি ময়ূরের ডিম কুড়িয়ে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। তার পরে সেই ডিম থেকে চারটি ময়ূরের ছানা জন্ম নেয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, একটি ময়ূর ছানাকে তুলে নিয়ে চলে যায় চিলে। এই ঘটনার পরে বাকি তিনটি ময়ূর ছানাকে আরও যন্তে নিজের বাড়িতে রাখেন ঠাকুর। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সব সময়ে খেয়াল রাখতে শুরু করেন ছানাগুলির।

তাঁরা জানালেন, ছানাগুলির খাবার হিসেবে প্রতিদিন উইপোকা ও পোকামাকড় খুঁজে এনে দেওয়া হয়। এ দিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তাদের নিয়ে বড়ই আহ্লাদে রয়েছেন হাঁসদা বাড়ির প্রতিটি সদস্য। এক ডাকেতেই ছুটে আসছে ময়ূর ছানাগুলিও। এক কথায় বলতে গেলে, তারা পরিবারেরই সদস্য হয়ে গেছে।

তবে ছানাগুলি বড় হয়ে গেলে তাদের ঢাকেশ্বরী জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঠাকুর হাঁসদা ও তার ছেলে সুখলাল হাঁসদা। প্রসঙ্গত, ঢাকেশ্বরীর এই জঙ্গলে বহু ময়ূর দেখা যায়। শিল্পাঞ্চলের মানুষ ময়ূর দেখতে ঢাকেশ্বরী জঙ্গলে বেড়াতেও যান।

তবে এখন আর জঙ্গলে নয়, ময়ূর দেখতে হাঁসদা বাড়িতেই আসছেন এলাকার মানুষজন।

Comments are closed.