বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

‘থাগ্গু কে লাড্ডু’ আর ‘বদনাম কুলপি’ বেচে খরিদ্দারদের ঠকাচ্ছে এই দোকান! কিন্তু কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানপুরের ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে বেশ নামজাদা মিষ্টির দোকান ‘থাগ্গু কে লাড্ডু’। মুখরোচক নানা মিষ্টির মধ্যে এই দোকানের নজরকাড়া আইটেম বড় বড় কাজু-পেস্তা সমন্বিত লাড্ডু। কুলপিও আছে, সে কথায় পরে আসা যাবে। চমকটা হচ্ছে বড় হোর্ডিংয়ে এই দোকানের নামের নীচে সাঁটা ট্যাগ লাইন, যে কোনও খরিদ্দারকে ভড়কে দিতে পারে। সেখানে বড় হরফে জ্বলজ্বল করছে , “অ্যায়সা কোই সাগা নেহি, জিসকো হামনে থাগা নেহি।” মানেটা কী? খরিদ্দারদের ঠকায় এই দোকান? তাও তো দোকানে ভিড়ে কোনও কমতি নেই। এটা কী করে সম্ভব!

কানপুরের এই মিষ্টির দোকান বলিউডেও বেশ বিখ্যাত। ২০০৫ সালে অভিষেক বচ্চন ও রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘বান্টি অউর বাবলি’ ছবির একটি দৃশ্যের শ্যুটিং হয়েছিল এই দোকানে। তার পর থেকে দোকানের নাম বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনে বিক্রিও অনেক। তাহলে এমন ভাবে খরিদ্দারদের বিভ্রান্ত করা কেন? বিষয়টা খোলসা করেছেন দোকানের মালিক নিজেই। বর্তমান মালিক আদর্শ পান্ডের প্রথমটা একটু রহস্য করেই বলেছেন, “আমরা খরিদ্দারদের সত্যি কথাই বলতে চাই, আমরা বাস্তবেই তো তাঁদের ঠকাচ্ছি।”

তিন পুরুষের দোকান ‘থাগ্গু কে লাড্ডু’। এমনটাই জানিয়েছেন আদর্শ পান্ডে। তাঁদের দাদু অবতার পান্ডে কানপুরে বসতি গড়ে তোলেন ৬০ বছর আগে। সে সময় পাকাপোক্ত কোনও দোকান ছিল না। রাস্তার মোড়েই প্লেটে করে লাড্ডু বেচতেন অবতার। ধীরে ধীরে পসার বাড়ে। এই লাড্ডু পছন্দ হয় এলাকার বাসিন্দাদের। পয়সা জমিয়ে তৈরি হয় দোকান। আদর্শের কথায়,  তাঁদের দাদু মহাত্মা গান্ধীর খুব ভক্ত ছিলেন। দোকানের ট্যাগ লাইনের পিছনের গল্পটা সেই গান্ধী-ভক্তিরই নিদর্শন।

একবার মহাত্মা গান্ধীর বক্তৃতা শুনতে গিয়েছিলেন অবতার পান্ডে। গান্ধী বলেছিলেন, চিনি হল ‘সাদা বিষ’। মানুষের উপকারে তো আসেই না, উল্টে শরীরের ক্ষতি করে।  নানা রকম জটিল রোগ হতে পারে চিনি খেলে। কিন্তু, চিনি ছাড়া তো মিষ্টি বানানো চলবে না। তাহলে উপায়? গান্ধী-ভক্ত অবতার তখন একটা উপায় বার করেন। দোকানে নামের সঙ্গে ট্যাগ লাইনও জুড়ে দেন, যে চিনি হল ক্ষতিকর, তবে সেই চিনি থেকেই তৈরি হচ্ছে মিষ্টি আর সেই মিষ্টি চাখতে যাঁরা ইচ্ছুক তাঁরা এই দোকানেই আসতেই পারেন। নাক ঘুরিয়ে বললে, নীলকণ্ঠের মতো যেনে শুনে বিষ পান করতে ইচ্ছুকদের এই দোকানে স্বাগত। অতএব, মিষ্টি বেচাও হল আবার সত্যি গোপনও হল না। অনেকটা ‘অশ্বত্থামা হত, ইতি গজ’-র স্টাইলে দুই দিকই বজায় রইল।

এ তো গেল দোকানের ইতিহাস, এ বার আসা যাক মিষ্টির বৈশিষ্ট্যে। আদর্শ জানালেন, এই দোকানের জনপ্রিয়তা শুধু এর ট্যাগ লাইনে নয়, বরং মিষ্টির স্বাদেও রয়েছে বৈচিত্র্য।  গড়পড়তা হলুদ বা লালচে-কমলা লাড্ডু নয়, এই দোকানের লাড্ডুর রং সাদাটে-বাদামী। খোয়া ক্ষীর ও সুজির মিশ্রণে শুদ্ধ দেশি ঘি মিশে গিয়ে তৈরি হয় লাড্ডু। সাধারণ লাড্ডুও রয়েছে, আবার কাজু-পেস্তা-ফল-বাদাম ভরা খাস লাড্ডুও রয়েছে। দাম পড়বে, ৪২০-৬০০ টাকার মধ্যে।  আর একটা চমক হল এই দোকানের ‘বদনাম কুলপি’। ফের নেই নামে টুইস্ট। কুলপিকে বদনাম করার কারণটা ঠিক বোঝা না গেলেও সেই চিনি চর্চিত, অতিরিক্ত ক্রিম মাখানো কুলপি ডায়েটের দফারফা করতে পারে মনে করেই হয়তো এমন নাম। ১০০ গ্রাম কুলপির দাম পড়বে  ৪৪ টাকা।

Shares

Comments are closed.