মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬

‘সাইলেন্ট কিলার’ হাইপারটেনশন থেকে সতর্ক থাকুন, মেনে চলুন এই ঘরোয়া টোটকাগুলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃশব্দে হানা দেয় এই রোগ। আর লহমায় ছাড়খাড় করে দিয়ে চলে যায়। এই রোগ হতে পারে প্রাণঘাতীও। নাম তার উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। এখন তো ঘরে ঘরে আসর জমিয়েছে এই ব্যধি। অতিরিক্ত ওজন, স্ট্রেস, অনিয়মিত ডায়েট এবং কম ওয়ার্কআউট, সবকটিই উচ্চরক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ভারতের প্রতি তিন জন প্রাপ্তবয়স্কের এক জন উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এবং প্রতি বছর এই সমস্যায় দেশে ২.৬ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে ১৭ মে বিশ্ব হাইপার টেনশন দিবস ঘোষণাও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু।

সমীক্ষা বলছে, ভারতীয়দের মধ্যে ৫০ শতাংশই এই রোগে আক্রান্ত। স্ট্রেস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ফলে ২০-৩০ বছর বয়সীদে‌র মধ্যেও বাড়ছে হাইপার টেনশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা। আর তার ফলে ক্রমশ বাড়ছে স্ট্রোক, হার্টের অসুখ, ভাসকুলার ডিমেনশিয়া, ক্রনিক কিডনির অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

এখন দেখে নিন কী ভাবে এই ‘সাইলেন্ট কিলার’-এর মোকাবিলা করবেন। সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই ঘরোয়া টোটকাগুলি-

নুন কম খান:

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সবচেয়ে আগে নুন খাওয়া কমাতে হবে। কাঁচা নুন তো নৈব নৈব চ। রান্নাতেও যতটা সম্ভব নুন কম দিন। অতিরিক্ত নুন রক্তে মিশে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়ায় এবং দেহে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ হু হু করে বাড়তে থাকে। কিডনির উপরেও এর যথেষ্ট প্রভাব পড়ে।

সবুজ সবজি:

তেল মশলাদার খাবারকে বলুন গুডবাই। ফ্রায়েড খাবারের বদলে ডায়েট তালিকায় রাখুন সবুজ সব্জি। সিদ্ধ সব্জি বা অল্প তেলে রান্না সব্জি শরীরে ক্যালোরির মাত্রা ধরে রাখে। ফাইবার সমৃদ্ধ সবুজ সব্জিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফোলেট যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ওটমিল:

ওজন কমাতে এবং এনার্জি বাড়াতে ওটসের কোনও বিকল্প নেই। ডায়েটিশিয়ানরা প্রাতরাশে ওটস খাওয়ারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ওটসে সোডিয়ামের মাত্রা খুব কম, তা ছাড়া রয়েছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডায়েটে রাখুন কলা:

কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম যা রক্তচাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রাতরাশ, স্ন্যাকস দিনের যে কোনও মিলেই কলা রাখার চেষ্টা করুন।

তরমুজ:

অ্যামিনো অ্যাসিড এল-সিট্রুলিন সমৃদ্ধ তরমুজ শুধু রক্তচাপ নয়, শরীরের নানা সমস্যা দূর করে। এতে রয়েছে লাইকোপিন, পটাসিয়াম, ভিটামিন এ এবং ফাইবার যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

কমলালেবু:

নিউট্রশনিস্টরা জানাচ্ছেন, কমলালেবুর রসের সঙ্গে ডাবের জল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন। দিনে ২ থেকে ৩ বার এই মিশ্রণ খেলে রক্তচাপ অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শশা:

শশাতে জলীয় উপাদান খুব বেশি থাকে। ওজন কমানো হোক বা ডায়াবিটিসের সমস্যা, শশা যে কোনও ক্ষেত্রেই খুব উপকারী। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ডায়েটে শশার রায়তা খেলে রক্তচাপ কমে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে।

মধু:

হাইপারটেনশন বশে রাখতে ভারতীয় আয়ুর্বেদ মতে সবচেযে উপকারি হল মধু। এর নানা গুণ। যে কোনও রোগের আদর্শ প্রতিষেধক হতে পারে মধু। এক কাপ উষ্ণ গরম জলে এক চামচ মধুর সঙ্গে ৫-১০ ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন প্রাতরাশের আগে খান। অনেক উপকার পাবেন।

Shares

Comments are closed.