বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

অভাবের তাড়নায় স্ট্যাম্প পেপারে সই করে সন্তানকে বিক্রি ৫০ হাজারে

নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রির অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। এ বার ডায়মন্ডহারবারে। সামনে এসেছে নার্সিংহোমের যোগসাজশের অভিযোগও। যে দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা দাবি করেন, স্ট্যাম্প পেপারে সই করে মা তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন। শোরগোল শুরু হওয়ায় অবশ্য বাচ্চাটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে যান তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোচারণের বাসিন্দা বছর তিরিশের ওই মহিলার দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। অভাবের সংসারে তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যেই মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন তাঁকে। তখন ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও অভাবের সংসার। এ বার ডায়মন্ডহারবারের পারুলিয়ায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সন্তান প্রসব করেন তিনি। অভিযোগ, এরপরেই তাঁর সন্তানকে নিয়ে যায় ধনবেড়িয়ার এক নিঃসন্তান দম্পতি।

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের নজরে এলে শুরু হয় হইচই। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। খবর পেয়ে আসে পুলিশ ও চাইল্ডলাইনের লোকজন। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করে করে। এরপরেই যাঁরা বাচ্চা নিয়ে গেছে সেই দম্পতিকে, নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ মারফত ডেকে পাঠায় পুলিশ।

বাচ্চা নিয়ে এসে ওই দম্পতি দাবি করে, সদ্যোজাত শিশুটি নেওয়ার জন্য প্রসূতি মহিলার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেছেন তাঁরা। এমনকি সদ্যোজাত শিশুর বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা প্রসূতি মহিলাকে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে মা আর সন্তানকে দাবি না করতে পারেন, তার জন্য স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নেন। পরে পুলিশ ও চাইল্ডলাইনের মধ্যস্থতায় বাচ্চাটিকে ফিরিয়ে দিয়ে যান তাঁরা।‘

ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস রায় বলেন, স্ট্যাম্প পেপারে সই করে কখনও বাচ্চাকে কারও হাতে তুলে দেওয়া যায় না। এটা অনৈতিক। বাচ্চাটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুরো ঘটনায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। কীভাবে একজনের সদ্যোজাত শিশু অবৈধভাবে হস্তান্তর হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে কি নার্সিংহোমগুলিতে এ ভাবেই সবার অগোচরে চলছে শিশু বিক্রির রমরমা ব্যবসা? বিষয়টা নিয়ে কতটা সজাগ স্বাস্থ্য দফতর?

আজকের ঘটনার পর এই সমস্ত প্রশ্নই ঘুরছে এলাকায়।

Comments are closed.