বাঁকুড়া পুরসভায় দ্বন্দ্ব মেটাতে আসরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া:  তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পুরসভার উপপুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়ালের ‘পদত্যাগ’ ঘিরে উত্তপ্ত জেলা রাজনীতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ বার উঠে পড়ে লেগেছেন শাসক দলের জেলা নেতৃত্ব। বিতর্কের অবসানে পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও উপপুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়ালকে নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল। পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারিতার’ অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিকেলে ‘পদত্যাগ’ করেন বাঁকুড়া পুরসভার উপপুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়াল। পুরসভা ভবনে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে এই কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

    আজ উপপুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়াল টেলিফোনে বলেন, ‘‘সমস্যা সমাধানে দলের জেলা সভাপতি তিন দিন সময় চেয়েছেন। এই তিন দিনের মধ্যে দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে সব সমস্যার সমাধান তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন।’’ এর পরেও সমস্যা না মিটলে তাঁর পদে থাকার কোনও সম্ভাবনাই নেই। গতকালই  তিনি তাঁর পদত্যাগ পত্র দলের জেলা অবজার্ভার শুভেন্দু অধিকারী ও জেলা সভাপতি শুভাশিস বটব্যালকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন বলেও জানান।

    পুরপ্রধান তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে পুরসভা পরিচালনা করছেন বলে গতকাল অভিযোগ করেন দিলীপবাবু। এতে তিনি ‘অপমানিত’ বলেও দাবি করেন। জানান, সম্প্রতি পুরসভার ট্রাক্টর মেরামতির জন্য একটি সংস্থাকে তিনি বরাত দিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ আইন মেনে সেই কাজ হলেও পুরপ্রধান সেই সংস্থার টাকা আটকে রেখেছেন। একই সঙ্গে পুরসভার কাজের জন্য একটি টোটো কেনার ক্ষেত্রেও একই ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি জেলা নেতৃত্ব থেকে দলের তৎকালীন জেলা পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য নেতৃত্বকেও জানিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করছেন বলে জানান।

    তবে পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের দাবি, তাঁর কাছে এ ধরণের কোনও অভিযোগ আসেনি। উপ পুরপ্রধানের ‘পদত্যাগ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘উপ পুরপ্রধান যেটা করেছেন, তার কিছুই আমি জানি না। আমার কাছে কোনও ইনফরমেশন নেই। খবরের কাগজে দেখলাম।’’

    লোকসভা ভোটের পর এই জেলায় শাসক দলের ক্ষমতা অনেকটাই কমেছে। বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতও এখন তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে দল যাতে আরও ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত না হয় তা আটকাতেই এরপর জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব উঠে পড়ে লেগেছেন। দুজনের সম্পর্কের টানাপড়েন যাতে দ্রুত মেটে শুরু হয়েছে সেই চেষ্টা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More