শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

সসেজ-বেকন-সালামি আর নয়, জানেন কি ‘প্রসেসড মিট’ বাড়ায় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনার কি সসেজ খুবই পছন্দ? নাকি বেকন, না কোনও মাংসের পুর ঠাসা বার্গার? পছন্দের তালিকায় যদি প্যাকেটজাত মাংস থাকে তাহলে সাবধান!  কারণ  ক্যানসারের ঝুঁকি এড়াতে প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) মাংসকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে দূরে রাখারই পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সসেজ-বেকন-সালামি নয়, যে কোনও ধরনের খাবার যা সংরক্ষণের জন্য বিশেষ রাসায়নিক (প্রিজার্ভেটিভ) ব্যবহার করা হয়, তাকে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এই রাসায়নিক ক্যানসারের সম্ভাবনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।  ক্যানসার সম্বন্ধীয় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকাগুলিতে এই সংক্রান্ত অনেক প্রতিবেদন বার হয়েছে।  সিগারেটের প্যাকেটে যেমন ক্যানসারের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, এই ধরনের প্যাকেটবন্দিও খাবারের ক্ষেত্রেও সেটা চালু করা যায় কিনা সেই নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মারিয়ম ফারভিদ বলেছেন, “আগের অনেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রসেসড খাবার নানা ধরণের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বর্তমান গবেষণা বলছে স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা দ্বিগুণ করে প্যাকেটবন্দি মাংস। ” ক্যানসারের ইতিবৃত্ত এখনও রহস্যে ভরপুর। আগাম আঁচ না দিয়েই আচমকা রোগটা থাবা বসায় শরীরে। তাই সাবধান থাকাটা সবার আগে জরুরি বলেই মনে করছেন মারিয়ম।

প্রক্রিয়াজাত খাবারের এমন রমরমা বাজারে। বহু পরিবারেই সকালের খাবারে বা ছোটদের স্কুলের টিফিনে প্রক্রিয়াজাত মাংসের নানা পদ জায়গা করে নেয় প্রায় রোজই। খুচরো খিদে মেটাতে আমরা প্রায়ই প্যাকেটজাত স্যান্ডউইচ, বার্গার, হটডগের দ্বারস্থ হই। একটা আস্ত বার্গার মানেই বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য পেট ভর্তি, মনও খুশ। চিকিৎসকদের মতে, এমনিতেই ‘রেড মিট’ নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়, তার ওপরে প্যাকেটবন্দি রেড মিটের সসেজ, বেকন বা বার্গার আরও ক্ষতিকর।

কেন বিপজ্জনক প্রসেসড মিট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার সংরক্ষণের জন্য (প্রিজার্ভেটিভ) বিউটিলেটেড হাইড্রক্সিটলুয়েন এবং বিউটিলেটেড হাইড্রক্সিঅ্যানিসোল নামে দুই রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এই রাসায়নিকগুলি জিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে।

তা ছাড়া, খাবার সংরক্ষণের জন্য সোডিয়াম ওমাডিন নামে একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যার জেরে শরীরে ট্রান্সফ্যাট জমার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে যায়। ট্রান্সফ্যাট হল এমন ধরনের ফ্যাট যাকে পোড়ানো যায় না। শরীরের পক্ষে এটি খুবই বিপজ্জনক।

প্রসেসড ফুড বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্লাস্টিকের মোড়কে থাকে। সোডিয়াম ওমাডিন সেই প্লাস্টিক থেকে কার্সিনোজেনিক বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থগুলিকে বার করে খাবারে মিশতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার সংরক্ষণের রাসায়নিকগুলি শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। আবার রেড মিট-ও ক্ষতিকর। ওই দু’টি যদি একসঙ্গে মেশে তা হলে তার ফল হতে পারে ভয়াবহ।

খাওয়াদাওয়ার ভুল অভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাবে স্থূলত্বের সমস্যা ঊর্ধ্বমুখী। ইতিমধ্যেই একে ক্যানসারের কারণ হিসেবে দায়ী করেছে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তার উপর প্যাকেটজাত খাবারের প্রেমে মজেছে নতুন প্রজন্ম। এই ধরণের খাবার শিশুদেরও বিশেষ পছন্দের। অভিভাবকরাও আদর করে সেটা কিনে দিচ্ছেন। কারণ, এটা স্ন্যাকসও বটে, আবার সহজলভ্য। বাড়িতে রান্নার ঝামেলা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকেটবন্দি এই সব আমিষ খাবার এক-আধ দিন চলতে পারে। কিন্তু নিয়মিত এ সব খাওয়ার অর্থ রোগকে আদর করে ঘরে ডেকে আনা। খুব দ্রুত এই অভ্যাসে লাগাম না টানলে সমূহ বিপদ দরজায় কড়া নাড়তে পারে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

 

Shares

Comments are closed.