স্বামীর খুনে তৃণমূলের কেউ জড়িত নয়, অনুব্রতর পাশে বসে দাবি নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াই হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। শনিবার সন্ধ্যায় বোলপুরের তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ে  হাজির হন স্বরূপের স্ত্রী চায়না। বলেন, ‘‘আমার স্বামীর মারা যাওয়ার পর আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত ছিলাম। আমি নিজে তৃণমূলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করিনি। করেছে আমার দেওর অনুপ গড়াই।’’ সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুবরাজপুরের বিধায়ক নরেশচন্দ্র বাউড়ি, অনুব্রত মণ্ডল এবং বোলপুর সাংসদ অসিত মাল।

    তাঁর স্বামী একজন তৃণমূল কর্মী ছিলেন বলেও দাবি করেন চায়না। বলেন, ‘‘নানুর থানায় ১১ জনের নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা আমি করিনি। অভিযোগ করেছে আমার দেওর অনুপ। যে ১১ জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছে তারা কেউ খুনের ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল না। পুলিশের কাছে আবেদন রাখব বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত খুনীদের শাস্তি দিক। এ দিন নানুর থানায় লিখিত অভিযোগ করে বিষয়টির তদন্তও চেয়েছেন চায়না। নানুরের বিজেপি নেতা বিনয়চন্দ্র ঘোষ বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলের ল’সেলে আলোচনা চলছে।

    সাংবাদিক বৈঠকে চায়না গড়াইকে মুকুল রায়ের অর্থ সাহায্যের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, তাঁকে থামিয়েই বীরভম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‘বিপদের সময় কেউ অর্থ সাহায্য করলে সেটা কে দিল, কেন দিল এ সব মাথায় থাকে না। তাই  সেই সময় কেউ অর্থ সাহায্য করলে তিনি নিয়েছেন। উনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, বিজেপির লোকেরা এই সব করেছে। অভিযোগের তালিকায় যাঁদের নাম রাখা হয়েছে, তারা কেউ দোষী নয়।’’

    চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে  রাজনৈতিক পতাকা টাঙানোকে ঘিরে  নানুরের রামকৃষ্ণপুরে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ হয়। ঘটনার জেরে দুই বিজেপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। রামকৃষ্ণপুরে রাতভর চলে ব্যাপক বোমাবাজি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ রেফার করে আহতদের।   সেখানেই স্বরূপ গড়াইয়ের  মৃত্যু হয়। স্বরূপকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। মামলাও শুরু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে তেতে উঠেছিল জেলার রাজনীতি। তার ঢেউ এসে পৌঁছেছিল কলকাতাতেও।

    শাসকদলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই স্বরূপের স্ত্রীর ভোলবদল বলে মনে করছে জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। তবে তা মানতে নারাজ তৃণমূল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More