মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬

প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরে প্যাসনেট চুমু, এতেই কমবে স্ট্রেস, চাঙ্গা থাকবে হার্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  হাগ বা গোদা বাংলায় জড়িয়ে ধরা, আলিঙ্গন। একটা ছোট্ট শব্দ। কিন্তু হাজার অনুভূতির দ্যোতক। প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁটে আলতো ছোঁয়া, এক লহমায় বেজার মনকে করে তোলে চাঙ্গা। শরীরের সঙ্গে শরীরের স্পর্শ, আর ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁটের ব্যারিকেডের মৌতাতে মেতে থাকাটা কিন্তু মোটেও অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এই স্পর্শই নাকি দিনমানের স্ট্রেস কমিয়ে ভাল রাখে হার্ট। শরীরও হয় বিলকুল চাঙ্গা, ঝরঝরে। এমনটাই জানিয়েছেন ফিনল্যান্ডের একদল গবেষক।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই স্পর্শ নাকি কাজ করে ম্যাজিকের মতো। নিবিড় আলিঙ্গন বা একটা প্যাসনেট চুমু যে ভাললাগার অনুভূতি তৈরি করে, তা শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে স্নায়ুকে তাজা রাখে। শারীরিক উত্তেজনা থেকে রক্ত চলাচল হয় হু হু করে। প্রিয়জনকে আলতো করে ছুঁতে চাওয়ার ইচ্ছাই আপনাকে আরাম দেবে, রাখবে সুখে।

একই মত সুইডেনের বিজ্ঞানীদেরও। একটি বিজ্ঞানপত্রিকায় গবেষকরা লিখেছিলেন, আলিঙ্গন বা আদর শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশুদেরও শারীরিক উন্নতি ঘটায়। স্নেহের ছোঁয়ায় সাড়া দেয় সদ্যোজাতরাও। আমরা যখন কখনও কারোকে জড়িয়ে ধরি তখন অক্সিটসিন হরমোন নিঃসারণ হয়। এই হরমোন আমাদেরকে মানসিক ভাবে সুখি অনুভব করতে সাহায্য করে। এই হরমোন সামাজিক বন্ধন বাড়াতেও সাহায্য করে। কেন না নিউরো-পেপটাইড অক্সিটক্সিন হরমোন আমাদের মধ্যে সততা, অনুরাগ বাড়িয়ে তোলে। যখন কেউ আপনাকে জড়ায় তখন ত্বকের মধ্যে থাকা পাসিনিয়ান কর্পাসেলস নামে প্রেসার রিসেপটর মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। যা হার্টের ভাল থাকার পক্ষে খুবই জরুরি।

তাই হার্ট ভাল রাখতে ওষুধ নয়, বরং প্রিয় মানুষের আলতো ছোঁয়াই হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। আলিঙ্গনের আবার রকমফের রয়েছে। হাল্কা হাগ থেকে, আশ্লেষে জড়িয়ে ধরা-কোনওটাই খারাপ নয়। একাকীত্ব থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক অবসাদ কমাতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

আর সম্পর্কের রসায়নের কথায় যদি আসা হয়, সে ক্ষেত্রে চুমুর তো বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। নেদারল্যান্ডের এক দল বিজ্ঞানী জানিয়ে ছিলেন ১০ সেকেন্ডের ছোট্ট একটা চুমুর সঙ্গে আমরা ৮০ মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়ার আদান প্রদান করি। ভয় পাবেন না। এই সব ব্যাকটেরিয়া মোটেই ক্ষতিকর নয়। বরং, ক্ষণিকের জন্য ঠোঁট বন্দি হলেই শরীরে জুড়ে নিউরো ট্রান্সমিটার আর হরমোনদের ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। তাতেও শরীরও  হয়ে ওঠে ফিট অ্যান্ড ফাইন!! তাই এর পর থেকে আলিঙ্গন আর চুম্বন থুড়ি হাগ আর কিসকে মোটেও বাঁকা চোখে দেখবেন না, কারণ এরা শুধু সুস্থ সম্পর্কের রসায়ন নয়, বরং সুস্থ শরীরেরও চাবিকাঠি।

Shares

Comments are closed.