বুধবার, জানুয়ারি ২৯
TheWall
TheWall

খোঁয়াড়ে না খেতে পেয়ে পরের পর মৃত্যু গরু মোষের, শেষে দেহ ফেলে দূষণ গঙ্গায়-পদ্মায়

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ : মরে পচে যাওয়া গরু বিষিয়ে তুলছে গঙ্গাকে। পদ্মাকেও। তীরবর্তী মানুষের অনেক প্রতিবাদেও প্রশাসনের কারও ঘুম ভাঙছে না বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের।

মুর্শিদাবাদের সুতি সীমান্ত এলাকা। বাংলাদেশে পাচার করার পথে প্রায় প্রতিদিনই কয়েকশো করে গরু উদ্ধার করে বিএসএফ। তারপর পাচারকারীদের সঙ্গেই সেই পশুদেরও তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। থানা থেকে এই সমস্ত পশু চলে যায় স্থানীয় খোঁয়াড়গুলিতে। খোঁয়াড়ে এই সব পশুগুলির ঠিকমতো দেখভাল হয় না বলে অভিযোগ। খোঁয়াড় মালিকদের পাল্টা অভিযোগ, আগে ধরা গরু নিলাম হয়ে টাকা পাওয়া যেত, এখন আদালতের নির্দেশে সে পথও বন্ধ। তাই গরু দেখভালের কোনও টাকা নেই।

এলাকার মানুষ জানাচ্ছেন, আটক হওয়া কয়েক হাজার গরু ও মহিষকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার ও যত্নের অভাবে সুতি থানা এলাকার বিভিন্ন খোঁয়াড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টি গরুর মৃত্যু হয়। মৃত পশু মাটিতে পুঁতে দেওয়ার কথা বলা হলেও খোঁয়াড় মালিকরা এ গুলিকে ট্রাক্টরে চাপিয়ে কখনও ফেলে দিচ্ছেন গঙ্গায়, কখনও পদ্মায়। মড়া পশুর দুর্গন্ধে ঘাটের কাছে ঘেঁসতে পারছেন না মানুষ। দূষণের মাত্রা বাড়ছে দুই নদীতেই।

বিএসএফ এর ডিআইজি (মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ) কুণাল মজুমদারের দাবি,  আটক হওয়া গরুগুলিকে জিডি করে পুলিসের দায়িত্বে দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর আর তাঁদের কোনও দায় নেই।

আর জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ বললেন, তাঁদের হাতে বিএসএফ উদ্ধার হওয়া পশু তুলে দেয় বটে, কিন্তু তা তাঁরা আবার আইন মেনে তুলে দেন বিভিন্ন খোঁয়াড় মালিকের হাতে। কাজেই এ ব্যাপারে তাঁদেরও কিছু করার নেই।

তবে মুর্শিদাবাদের জেলা সভাধিপতি মোশারফ হোসেন বলেন, “এ বিষয়টা আমাদের জানা ছিল না। খুবই অনুচিত কাজ। আমরা কড়া পদক্ষেপ করছি।” তাঁর দাবি, “আজকের পরে আর কখনও মড়া পশু নদীতে ফেলা হবে না।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, খোঁয়াড়ে কেন পশুগুলিকে না খাইয়ে রাখা হয়, সে বিষয়টিও তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।

তাঁর এই দাবি মতো সত্যি সত্যিই পশুদের উপর এই অত্যাচার ও নদী দূষণ বন্ধ হয় কি না সেটাই এখন দেখার।

Share.

Comments are closed.