বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বোর্ড গঠন ঘিরে উত্তপ্ত চোপড়া, গুলি-বোমাবাজি ইটাহারে, গণ্ডগোল জয়নগরেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ফের বোর্ড গঠনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত। গত কয়েকদিন ধরেই বোর্ড গঠন এবং প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে অশান্তি ছড়াচ্ছে নানা জেলায়। মঙ্গলবার ছিল দাসপাড়ায় প্রধান নির্বাচন। বোমাবাজি, গুলি ঘিরে সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দাসপুর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, চোপড়া থানার দাসপাড়া গ্রামপঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনকে ঘিরে সকাল থেকে ঝামেলায় জড়ায় তৃণমূল ও কংগ্রেস সমর্থকেরা। পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চলে এলাকায়। শুরু হয় বোমাবাজিও। ইতিমধ্যেই গুলি লেগে তিনজনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় র‍্যাফ, কমব্যাট ফোর্স-সহ চোপড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানোর পাশাপাশি শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায়। সংঘর্ষ থামাতে আনা হয় জলকামান।

ঝামেলার মাঝেই চোপড়ার দাসপাড়া গ্রামপঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করে তৃনমূল কংগ্রেস। মোট ২৩ টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করে তৃণমূল। প্রধান নির্বাচিত হন দুলাল মন্ডল এবং উপপ্রধান নির্বাচিত হন মনসুর আলম।

বোর্ড গঠনে আপত্তি জানিয়ে গতকালই চোপড়ায় কংগ্রেস- সিপিএম জোট হুমকি দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, ভোট গণনার দিন সন্ত্রাস করে নিজেদের সদস্যদের জিতিয়ে নেয় তৃণমূল। লক্ষীপুরের পর আজ দাসপাড়া গ্রামপঞ্চায়েতে কংগ্রেস ও সিপিএম জোট বোর্ড গঠনে বাধা দিতে এলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায় তৃণমূলের। জখমদের শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

বোর্ড গঠন ঘিরে অগ্নিগর্ভ ইটাহারও। সকাল থেকে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। যথেচ্ছ বোমাবাজিতে আতঙ্কিত এলাকার মানুষ। গুলি চলে বলেও অভিযোগ। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৯ পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপির বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও।

পঞ্চায়েত গঠনকে কেন্দ্র করে গুলি, বোমাবাজি ,ভাঙচুর হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরেও। জয়নগর থানার বহড়ু-ক্ষেত্র গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়I মঙ্গলবার পঞ্চায়েতে প্রধান, উপপ্রধান পদ নিয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার পরই পঞ্চায়েতের বাইরের কুলপি রোডের ওপর সংঘর্ষ শুরু হয় নির্দল ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের মধ্যে I পঞ্চায়েত অফিসের সামনে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বহড়ু হাই গার্লস ও বয়েজ় স্কুলের সামনের কুলপি রোডের ওপর বোমাবাজি হয় I গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ I সেই সঙ্গে বাইক ও দোকানে ভাঙচুর করা হয় I এই হামলার অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে নির্দলদের দিকে I যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্দল নেতৃত্ব I পরে এসডিপিও বারুইপুরের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে উত্তেজনাময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে Iএই ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে I

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Leave A Reply