শনিবার, অক্টোবর ১৯

খেলার সঙ্গী কদমগাছ, কেটে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্তে তাই একজোট খুদেরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : প্রতিদিন যে গাছের নীচে তাদের হুটোপাটি, খেলা, গল্প, কাঠবিড়ালিদের সঙ্গে মজা করা, সে গাছই কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ খবর শুনে তাই সরে থাকতে পারল না খুদের দল। গাছ আঁকড়ে প্রতিবাদ শুরু হল স্কুল চত্বরে।

গুসকরা শহরে আউশগ্রাম ১ নম্বর বিডিও অফিসের পাশেই গুসকরা পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনেই রয়েছে বহু প্রাচীন একটি বিশাল কদমগাছ। সুবিশাল মহীরুহে বাসা বেঁধেছে পাখির দল। স্কুলে আসা খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে পাখিদের কলতান। ছোটদের গা ঘেঁষেই অনবরত যাতায়াত গাছের বাসিন্দা কাঠবিড়ালিদেরও।

সম্প্রতি বিডিও অফিসের নিরাপত্তার জন্য সীমানা প্রাচীর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। সে কাজ শুরু হলেই কাটা পড়বে এই কদম গাছ। আর তাতেই সায় নেই খুদে পড়ুয়াদের। গাছ আঁকড়ে নিজেদের ভালবাসার কথা তারা জানাচ্ছে প্রতিদিন। পাশাপাশি ব্লক প্রশাসনের কাছেও এই গাছটি না কাটার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছে তারা। তাদের কথায়, “এই গাছটাকে ঘিরেই তো আমরা লুকোচুরি খেলি। ডাল ধরে দোল খাই। ফুলটাও খুব সুন্দর। গাছ কাটলে খেলব কেমন করে? কাঠবিড়ালি আর পাখিগুলোও বা থাকবে কোথায়?”

১৯৬৯ সালে তৈরি হয়েছিল স্কুলটি। তখন আরও গাছপালা ছিল একে ঘিরে। পরবর্তীতে নগরায়নের স্বার্থে সে সবুজের অনেকটাই এখন আর নেই। যেটুকু আছে, পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে সেটুকু অন্তত থাকুক। চাইছেন শিক্ষকরাও। স্কুলের শিক্ষক বিমল মণ্ডল বলেন, “প্রশাসনের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের দিকে তাকিয়ে যেন গাছটি বাঁচিয়ে অফিসের সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়।”

পাঁচিল দিতে গিয়ে তাই বিব্রত আউশগ্রাম ১ নম্বরের বিডিও চিত্তজিৎ বসুও। গোটা ব্যাপারটা স্কুলে সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “গাছ কাটতে গিয়ে যে খুদেদের এমন বাধার মুখে পড়তে হবে জানা ছিল না। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেব আমরা।”

বেশ কয়েক বছর আগে মেদিনীপুর শহরে একটি স্কুলের প্রাঙ্গনে গাছ বাঁচাতে এভাবেই গাছকে আলিঙ্গন করে আন্দোলনে নেমেছিলেন সেই স্কুলের ছাত্রীরা।

Comments are closed.