বুধবার, ডিসেম্বর ১১
TheWall
TheWall

বছর সাতাশের তরুণ শোনালেন রতন টাটার সহযোগী হওয়ার কথা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কী ভাবে তিনি রতন টাটার মতো শিল্পপতির সহযোগী হয়ে উঠেছেন, ‘হিউম্যানস অফ বম্বে’ নামে একটি ওয়েবসাইটে এ কথা বর্ণনা  করেছন বছর সাতাশের এক যুবক। তাঁর নাম শান্তনু নাইড়ু।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে কলেজ থেকে বেরিয়ে সোজা টাটা গোষ্ঠীতে যোগ দেন। একদিন সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত সবকিছু বেশ ভালভাবেই কাটছিল। আর পাঁচদিনের মতো সেদিনও সন্ধ্যায় তিনি যখন তিনি বাড়ি ফিরছিলেন, তখন দেখলেন রাস্তার মাঝে একটি কুকুরের দেহ পড়ে রয়েছে। সেই দৃশ্য তাঁর মনকে নাড়া দিয়েছিল। তিনি ও তাঁর বন্ধুরা মিলে কুকুরের গলায় পরানোর উপযোগী এমন একটি ‘কলার’ বানালেন যেটির উপরে আলো পড়া মাত্রই তা প্রতিফলিত হবে। ফলে এমন কলার কুকুরের গলায় পরিয়ে দিলে এই ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি স্থানীয় লোকজনকে সচেতন করতে শুরু করলেন। ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল পরিধিও।

ক্রমেই তাঁর এই উদ্যোগের কথা চাকদিকে ছড়িয়ে পড়ে। টাটাদের নিউজলেটারে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করা হল।

শান্তনু বলেন, “মোটামুটি ভাবে ওই সময়েই আমার বাবা আমাকে বললেন যে রতন টাটাকে একটি চিঠি লিখতে, কারণ তিনিও নাকি কুকুর পছন্দ করেন। প্রথমে আমি দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যাই, পরে অবশ্য নিজেকেই প্রশ্ন করি, কেন লিখব না?”

মাস দুয়েক পরে দেশের অন্যতম সেরা শিল্পপতি রতন টাটার সঙ্গে বৈঠকের জন্য তিনি ডাক পান।

মাস্টার্স ডিগ্রি পাওয়া বাকি ছিল বলে তখনকার মতো ফিরে আসেন, তবে রতন টাটাকে তিনি কথা দিয়ে দেন যে, তিনি “টাটা ট্রাস্টের জন্য নিজেকে উৎসর্গ” করবেন।

বিদেশ থেকে ফেরার পরে শান্তনুকে ফোন করেন রতন টাটা এবং বলেন যে তাঁর অফিসে অনেক কাজ পড়ে রয়েছে, শান্তনু যদি তাঁর সহযোগী (অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসাবে কাজ করেন! শান্তনুর কথায়, “আমি বুঝতে পারছিলাম না যে কী ভাবে অভব্যক্তি প্রকাশ করব। তাই আমি দীর্ঘ একটা শ্বাস নিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ’।”

শান্তনুর এই পোস্ট এখন ভাইরাল হয়ে গেছে। ফেসবুক পেজে লাইকের সংখ্যা দ্রুত ষোলো হাজার ছাড়িয়ে যায়।

https://www.facebook.com/humansofbombay/photos/a.253147214894263/1246920628850245/?type=3

সেখানে একজন মন্তব্য করেছেন, “নবীন আত্মাই পৃথিবীতে আলো জ্বালায়। দারুণ কাজ করছেন রতন টাটা, আপনি এক ঐশ্বরিক ব্যাপারের সন্ধান পেয়েছেন এবং তাকে নিজের পথে চালিত করেছেন।”

Comments are closed.