দেবীপক্ষের শুরুতে রেডিও কিন্তু চাই-ই, নাওয়া খাওয়ার সময় নেই গৌতমদার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি:  বছরভর তেমন খোঁজ পড়ে না। তবে মহালয়া এলেই খোঁজ শুরু হয়ে যায় গৌতমদার। পিতৃপক্ষের শেষ কয়েকদিন তাই নাওয়া খাওয়ার সময়ও কুলিয়ে ওঠা ভার।

    আজ রাত পোহালেই মহালয়া। ভোররাতে উঠে রেডিওতে শুনতে হবে চণ্ডীপাঠ। তাই  ধুলো ঝেড়ে বার করা রেডিওটাকে সারিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে কয়েক দিন আগে থেকেই। গৌতমদার রেডিও সারাইয়ের দোকানে শুক্রবার দিনভর ভিড়। কেউ একটু আগে থাকতে দিয়ে গেছেন। কেউ আবার একেবারে শেষ মুহূর্তে। সে যাই হোক, বাড়িতে তো নিয়ে যেতে হবে আজই।

    জলপাইগুড়ি কদমতলা মোড়ে গৌতম দাসের রেডিও সারাইয়ের দোকান। গত ৪২ ধরে এখানে দোকান করছেন তিনি। জেলার নানা প্রান্তে থাকা রেডিও সারাইয়ের অন্য দোকানগুলি কবে টিভি বা মোবাইল সারানোর দোকান হয়ে গেছে। কিন্তু অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স জিনিস মেরামতির কাজ না জানায় আজও নিষ্ঠাভরে শুধু রেডিও সারাইয়ের কাজই করে যাচ্ছেন। তাই আজও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক আসে গৌতমদার কাছে। রেডিও সারাতে। মহালয়ার আগে তো বটেই।

    রেডিওকে অনেক আগেই পিছনে রেখে এসেছেন সবাই। আধুনিক জীবনে এখন ফোর জি মোবাইলের দাপট। কিন্তু মহালয়ায় বরাবরই বাঙালি নস্টালজিক। চলে হারানোকে খোঁজার পালা। এখনও বাঙালির কাছে কাকভোরে দেবীপক্ষ আসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠে। আর সেই পাঠ শুনতে এখনও রেডিওতেই কান পাততে চায়। তারপর পিতৃ তর্পণ সেরে দেবীপক্ষ কে আবাহনের পালা।

    মহালয়ার ভোরে উঠে স্নান সেরে রেডিওতে বীরেন্দ্রকিশোর ভদ্রের চণ্ডীপাঠ শোনেন জলপাইগুড়ির পানপাড়ার বাসিন্দা অভিজিৎ সাহার বৃদ্ধ বাবা। বাড়িতে থাকা রেডিও খোলা হয় সে দিন। তারপর শুরু হয় আবার ধুলো জমা। বললেন, ‘‘এই একটা দিনের জন্য ফি বছরই আমাকে আসতে হয় জলপাইগুড়ি কদমতলার মোড়ে। গৌতম দাসের রেডিও সারাইয়ের দোকানে। উনি দিব্যি সারিয়ে দেন রেডিওটা। শুধু বাবা নয়, আমরা সবাই মহালয়া শুনি এই রেডিও চালিয়ে।’’

    আর গৌতমবাবু বলছেন, ‘‘সারা বছর একরকম ফাঁকাই থাকি। কিন্তু এই ক’দিন সত্যি বলতে কি খাওয়ার সময় পাই না। মহালয়ার আগে সবার রেডিওই তো সারিয়ে দিতে হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More