ধরাছোঁয়ার বাইরে পোস্ত, তাই তিল আঁকড়ে বর্ধমানের মানুষ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: বেজায় বেকায়দায় পড়ে গেছেন বর্ধমানবাসী। ৭০০- ৮০০ টাকার সঙ্গে তাও কোনওরকম মানিয়ে বুঝিয়ে চলা যাচ্ছিল। তাই বলে এক লাফে দেড় হাজার। অথচ পাতে একটু পোস্ত ছাড়া যে দুপুরের খাওয়াটাই বৃথা। দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে ভরসা এখন তিল। পোস্তর বড়ার জায়গা দ্রুত দখল করে নিচ্ছে তিলের বড়া।

    কিন্তু পোস্তর বিকল্প কি তিল হতে পারে ? মনে মনে মানছেন সবাই। কিন্তু উপায় কী ? পোস্তর লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির ফলে বেছে নিতে হচ্ছে তিলকেই। ফলে মুদিখানা দোকানগুলিতে সম্প্রতি বেড়ে গিয়েছে তিলের বিক্রিও।

    রাঢ়বঙ্গে বিশেষ করে বর্ধমানের গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থবাড়ির হেঁসেলে পোস্ত থাকবেই। কারণ বর্ধমান জেলার উগ্রক্ষত্রিয় বা আগুরি সম্প্রদায়ের বসবাস। দৈনন্দিন মেনুতেই হোক, কি ভোজের অনুষ্ঠানে, পোস্ত ছাড়া যেন রসনা তৃপ্তি হয় না  এ জেলার মানুষের। আলু পোস্ত, ঝিঙে পোস্ত থেকে রুই পোস্ত, পিঁয়াজ পোস্ত এমন নানা পদ তো থাকেই, সঙ্গে পোস্তর লোভনীয় পদ হল পোস্তবাটা ও পোস্তর বড়া। বাড়িতে জামাই এলে মাছ, মাংসের পাশাপাশি পোস্ত বড়ার চল বরাবরের।

    গত এক মাসে পোস্তর দাম বেড়ে গিয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। একমাস আগে পোস্ত যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল তার দাম বর্তমানে ১২০০ টাকা ছাড়িয়ে দেড় হাজারের পথে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে পোস্তর বেশিরভাগটাই আমদানি হয় বিদেশ থেকে। কারণ এ দেশে পোস্ত চাষ নিষিদ্ধ। ভারতের মধ্যে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে কিছুটা চাষ হয়। তবে বেশিরভাগ পোস্তই আসে তুরস্ক ও চিন থেকে। বর্ধমানের নতুনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী প্রদীপ অগ্রবাল, শুভঙ্কর বণিকদের দাবি বিদেশে থেকে আমদানি না থাকায় দাম বেড়েছে পোস্তর। ভাতার বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম হাজরা বলেন, “কলকাতায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে যে পোস্ত আগে থেকে মজুত ছিল তাই চড়া দামে বিক্রি করছে। ফলে খুচরো ব্যবসায়ীরা পোস্ত কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ অল্প পোস্ত তুলে বিক্রি করছেন।”

    এই মওকায় বেড়ে গেছে তিলের খোসা ছাড়িয়ে প্যাকেটবন্দি করে মুদিখানা দোকানে বিক্রি। ব্যবসায়ীরাই জানাচ্ছেন, এই খোসা ছাড়ানো তিলের দাম ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে। কাটোয়া, গুসকরা, ভাতার প্রভৃতি এলাকায় মুদিখানা দোকানে গত একমাসে তিল বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। ভাতার ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা বিপ্লব প্রতিহার বলেন, “আমি নিজে পোস্ত কেনা বন্ধ করে তিলবাটার বড়া খাচ্ছি। স্বাদেও খুব ভালো। খরচও অনেক কম।” একই মত গুসকরার বাসিন্দা অধ্যাপক চিরঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি বলেন, “দাম বাড়ার পর থেকে আর পোস্ত কিনি না। তিল এনে বেটে দিব্যি চলছে।”

    ক্যাটারিং সংস্থার মালিক সুধীর চৌধুরী, শঙ্কর ঘোষালরা বলেন, “বিয়ে সহ যে কোনও অনুষ্ঠান বাড়িতে আলু পোস্তর চল আছে গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলায়। বছর দশেক হল আলু পোস্তর কদর বেড়েছে বিয়েবাড়িতেও। এখন তো পোস্ত খাওয়াতে গেলে বাড়িয়ে দিতে হবে প্লেটের দাম।”

    গৃহস্থের হেঁশেলে ঢুকলেও এখনও বিয়েবাড়ির ভোজে কিন্তু প্রবেশাধিকার পায়নি তিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More