শনিবার, নভেম্বর ১৬

অ্যাম্বুল্যান্স দাদার চোখ না সারলে তাঁদের কী হবে, উদ্বিগ্ন গোটা ক্রান্তি তল্লাট

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : চোখে ঠিক কী হয়েছে ? সারবে তো ? এটা জানতেই আজ সকালে হায়দরাবাদে পাড়ি দিলেন পদ্মশ্রী করিমুল হক। অ্যাম্বুল্যান্স দাদা বলেই যাকে চেনে গোটা ডুয়ার্স। বছরের পর বছর ধরে মাল মহকুমার প্রত্যন্ত ক্রান্তি এলাকা থেকে নিজের মোটরবাইকে করে অসহায় অসুস্থ মানুষদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। সে কাজের স্বীকৃতিতে পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মানও। সেই অ্যাম্বুল্যান্স দাদার চোখের অসুখের খবরে উদ্বিগ্ন গোটা তল্লাট। চোখ না সারলে তাঁর বাইকে চেপে আর্ত মানুষ হাসপাতালে যাবেন কী ভাবে?

সম্প্রতি দু চোখেই কম দেখছিলেন করিমুল। হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তাররা জানান, ছানি পড়েছে দু চোখে। অপারেশন করা হয়। করিমুল বললেন, “কয়েক দিন আগে বাইকে করে একজন রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার সময় হঠাৎ মনে হল রাস্তাটা বেঁকে বেঁকে যাচ্ছে। বাঁ চোখে হাত দিয়ে ঢেকে ডান চোখে যখন তাকালাম, দেখলাম ঠিক আছে। কিন্তু ডান চোখ ঢেকে বাঁ চোখে তাকাতেই বিপত্তি। দেখলাম সেই চোখেই সমস্যা। কারও মুখের দিকে তাকালেও মনে হচ্ছে মুখটা ভাঙা ভাঙা।”

চিকিৎসকরা জানান, সাব রেটিনাল নিও ভাসকুলার মেমব্রেন (সিএনভিএম) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন করিমুল। জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, এই রোগে চোখের রেটিনার ব্লাড ভেসেল ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসা না হলে এই রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানোরও আশঙ্কা। তাঁরাই জানান, মাসে একটি করে ইঞ্জেকশন দরকার হয়। যার দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। তিন মাস দিলেই উপকার পাওয়া যায়।

পদ্মশ্রী পাওয়ার পর থেকে আর চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করতে হয় না। বেতনের টাকাটাই সম্মান দক্ষিণা হিসেবে পান চা বাগান থেকে। আর আছে কিছু জমি জায়গা। সেই আয়ে সংসার চলে ষাট ছুঁইছুঁই করিমুলের। মাসে মাসে এত টাকা কী ভাবে জোগাড় করবেন এ সব ভেবেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। মৃত্যুই যাঁদের নিয়তি, সেই সব প্রত্যন্ত এলাকার অসুস্থ মানুষদের সেই ৯৫ সাল থেকে নিজের বাইক অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তাই গোটা ডুয়ার্সে তাঁর পরিচিতি। তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবরে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, “”আমাদের হাসপাতালে তো প্রায়ই আসে করিমুল। কখনও তো বলেনি চোখে এমন অসুখ। আমরা সব দায়িত্ব নিতে নেব।”

মঙ্গলবার বাগডোগরা থেকে হায়দরাবাদের বিমান ধরার আগে করিমুল বললেন, “জেনে আসি ঠিক কী হয়েছে চোখে। তারপর  চিকিৎসা তো হবে এ রাজ্যেই। আমার চোখ তো ভাল করতেই হবে। না হলে বাইক চালাবো কী করে?”

 

Comments are closed.