বোর্ড গঠন ঘিরে মারপিটে মালদায় মৃত ২, বোমায় জখম ৩ বছরের শিশু

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা:  বোর্ড গঠনকে ঘিরে হিংসা সোমবার প্রাণ কাড়ল আরও দুজনের। গুলিতে নিহত সালাম শেখ (৩৫) ও আজাহার শেখ (২৭)  দুজনেই মানিকচকের হুকুমতটোলার বাসিন্দা। সংঘর্ষ চলাকালীন বোমায় জখম হয়েছে তিন বছরের একচি শিশু ও সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ।  পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় টহল দিচ্ছে বিশাল পুলিশবাহিনী।  শনিবার বোর্ড গঠন নিয়ে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয় উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে।

বোর্ড গঠনকে ঘিরে সোমবার ভোর থেকেই তেতে ওঠে  মানিকচক থানার গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হুকুমতটোলা গ্রাম। প্রধান কে হবেন, তাই নিয়ে সংঘর্ষ বাধে তৃণমূলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। পরের পর বোমা পড়তে থাকে এলাকায়। চলে গুলিও। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হুকুমতটোলা। গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল দখল করেছিল ৫টি আসন। এবং কংগ্রেস পাঁচটি আসন দখল করে। প্রাথমিক ভাবে ত্রিশঙ্কু হলেও পরে কংগ্রেসের জেতা প্রার্থীরা তৃণমূলের সঙ্গে বোর্ড গঠন করবে বলে আশ্বাস দেন। বোর্ড গঠন নিশ্চিত হওয়ার পরেই শুরু হয় প্রধান কে হবেন তাই নিয়ে কাজিয়া।

গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই সামনে এসেছে প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র ও বিদায়ী জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডলের বিবাদ।  সাবিত্রীদেবীর হেরে যাওয়ার মূলেও গৌরবাবুর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ।  প্রধান নির্বাচন নিয়ে ফের এই দুজনের অনুগামীদের কাজিয়া প্রকাশ্যে এল।  সূত্সরের খবর, সম্প্রতি কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যদের মধ্যে তিনজন  প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। এর ফলে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয় ৮।  এই আট সদস্যের মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের অনুগামীদের সংখ্যা চারজন। বাকিরা বিদায়ী সহ সভাধিপতির অনুগামী। পরে কংগ্রেসের বাকি দুই সদস্য গৌরবাবুর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় তাঁর শিবিরের সদস্য সংখ্যা হয় ছ’জন। এরপরই বিদায়ী সহসভাধিপতির অনুগামীরা  প্রধান পদটি দাবি করেন। আর তা নিয়ে সংঘর্ষ।

এ দিন ভোর রাত থেকে মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়তে শুরু করে। বোমা ফেটে গুরুতর জখম হন মনিরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ। আহত হয় তিন বছরের শিশু  জিশান শেখও।  রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের প্রথমে ভর্তি করা হয় মিল্কি গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাদের স্থানান্তরিত করা হয় মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই তাদের  চিকিৎসা চলছে।  অন্যদিকে গুলিতে মারা যান সালাম শেখ ও আজাহার শেখ।

এ দিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেস সদস্যদের তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করার হুইপ জারি করল মালদা জেলা কংগ্রেস। সভানেত্রী তথা উত্তর মালদার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর জানান, জেলার ১৪৬টি গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে অনেক জায়গাতেই কোনও দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের জন্য  টিএমসি, বিজেপি বা কংগ্রেসের একে অপরের সমর্থন প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সদস্যরা কাদের হাত ধরবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তারই অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী মৌসম বেনজির নুর নির্দেশ দেন বিজেপি নয়, হাত ধরুন টিএমসির।

প্রধান কে হবেন তাই নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতও। রাতভোর এলাকায় চলে বোমাবাজি । অভিযোগ, দেগঙ্গার বিধায়ক তৃণমূলের রহিমা মণ্ডলের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তৃণমূলেরই অপর গোষ্ঠীর লোকজন।  ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ ।

বোর্ড গঠনের পরে  ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে চোপড়ার পশ্চিমটোলা গ্রামে। ছড়রা গুলিতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।  আগেই এলাকার বিভিন্ন রাস্তা কেটে দিয়েছিল বিরোধীরা। চলছিল অবরোধ। অভিযোগ আচমকাই তৃণমুল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। যদিও হামলার কথা অস্বীকার করেছে তৃণমুল কংগ্রেসের বিধায়ক হামিদুল রহমান। এলাকায় শুরু হয়েছে পুলিশি টহল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More