নিশ্চিন্তে নেই নিশ্চিন্তপুরের বাবা মায়েরা, সন্তানদের পাঠাতে পারছেন না জলবন্দি স্কুলে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ঝাঁ চকচকে স্কুল। ক্লাস ঘরে চেয়ার, বেঞ্চ, ফ্যান, কমতি নেই কিছুরই। রয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের মিড ডে মিল রান্না-খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা। শৌচাগার। তবুও স্কুলে আসে না পড়ুয়ারা। সেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে।

    আসবেই বা কেমন করে ? গোটা স্কুলই তো জলের নীচে। সেটাও সেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। কুলপি নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামপদ দলুই বলেন, “কতবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। ফল হয়নি কোনও।”

    স্কুলে ঢোকার মুখে দেখা গেল গোটা চত্বরে প্রায় হাঁটুজল। সেই জলে ডুবে রয়েছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। ক্লাসঘরে জল থইথই। মিড ডে মিল রান্না খাবার ঘর থেকে শৌচাগার সবই জলমগ্ন। এরই জেরে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করেছে স্কুলের পড়ুয়ারা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, একেই স্কুলটি নিচু জায়গায়। আগে আশেপাশে খোলা মাঠ ছিল। তাই জল জমতো না। এখন অনেক বাড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু নিকাশির কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই সমস্ত জল গিয়ে জমা হচ্ছে ওই স্কুলের আশেপাশে।    স্কুলের মিড ডে মিলের কর্মী বললেন, “জল জমার ফলে বিষাক্ত সাপের উৎপাত খুব বেড়ে গেছে। সেই ভয়েও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের আর স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।”

    এই জলে ডুবে থাকা স্কুল ভবনের পাশেই রয়েছে নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল। রামপদবাবু জানালেন, প্রাথমিক বিভাগের একশো পড়ুয়াকে সেখানে বসিয়ে ক্লাস করানোর চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু সকাল দশটার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ায় সেখানেও স্থান সঙ্কুলান হয় না। তাই খুব একটা সুবিধা হয়নি। নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক স্কুলের জন্য চার জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁরা স্কুলে আসেন প্রতিদিন। হাইস্কুলে গিয়ে বসেন। কখনও যদি কোনও ক্লাসঘর ফাঁকা থাকে ডেকে নেন প্রাথমিকের পড়ুয়াদের। কিন্তু তেমন সুযোগ বড় একটা মেলে না। তাই মোটের উপর শিকেয় এলাকার কচিকাঁচাদের পড়াশোনা।

    কুলপি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন হালদার বলেন, “বিষয়টা আমাদের নজরে আছে। নিকাশির ব্যবস্থা করে স্কুল থেকে জল বার করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের।”

    বিষয়টি জানা ছিল না কুলপির তৃণমূল বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদারের। খবর শুনে তিনি বললেন, “আমি জানতাম না। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব আমি।”

    যদি সত্যিই ব্যবস্থা হয় কোনও ! যদি সত্যিই জল সরে! তাহলে অন্তত রোজ স্কুলে পাঠানো যাবে ঘরের কচিকাঁচাদের। এটাই ভাবছেন নিশ্চিন্তপুরের বাবা মায়েরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More