বুধবার, জুলাই ১৭

শিশুদের শ্রমেই ভরছে শিশুদের পেট! বিস্কুট কারখানা থেকে উদ্ধার ২৬ শিশুশ্রমিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগেই পেরিয়েছে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম বিরোধী দিবস। দেশের নানা জায়গায় নানা অনুষ্ঠানে ও সচেতনতায় পালিত হয়েছে দিনটি। কিন্তু তার ঠিক পরেই যে ২৬ জন শিশুশ্রমিককে উদ্ধার করতে হবে জনপ্রিয় এক বিস্কুট নির্মাতা সংস্থার কারখানা থেকে, তা কে জানত!

সে বিস্কুট সংস্থার প্যাকেটে আবার এক শিশুরই মুখ আঁকা। ছোটদের পছন্দ বোঝাতে, সে মুখ বহু বছর ধরে রয়ে গিয়েছে প্যাকেটের গায়ে। সে সংস্থার জি অক্ষরটিকে জিনিয়াস বলে প্রচার করে। কে জানত, ছোটদের ভীষণ প্রিয় সেই বিস্কুট প্যাকেটবন্দি করে খুদে ক্রেতাদের মুখে রোজ তুলে দেয় পরিশ্রমী শিশুরাই!

ছত্তীসগড়ের রাজধানী রায়পুরের ওই জনপ্রিয় বিস্কুট কোম্পানির কারখানা থেকে ২৬ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্য থেকে শিশুদের এখানে এনে নূন্যতম মজুরিতে ভয়ঙ্কর পরিশ্রমের কাজ করানো হচ্ছিল৷ বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে ওই কারখানায় তল্লাশি চালা পুলিশ৷ তার পরেই সামনে আসে ভয়ঙ্কর সেই ছবি৷

রায়পুরের অমাশিবনি এলাকায় রয়েছে পার্লে জি বিস্কুটের ফ্যাক্টরি৷ সেখানেই হানা দেয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ দফতরের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিশেষ টাস্ক ফোর্স৷ সঙ্গে ছিল পুলিশও৷ ওই ফ্যাক্টরি থেকেই ১৩ থেকে ১৬ বছরের মোট ২৬ জন কিশোর-কিশোরী উদ্ধার হয়েছে৷ তাদের এখন রাখা হয়েছে সরকারি হোমে৷ ওই ফ্যাক্টরির মালিকের বিরুদ্ধে জুভেনাইল অ্যাক্টের নানা ধারায় অভিযাগ দায়ের করেছে পুলিশ৷

রায়পুরের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার নবনীত স্বর্ণকার জানান, ১২ জুন ছিল শিশু শ্রম বিরোধী দিবস উপলক্ষেই জেলা জুড়ে শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়৷ এই অভিযানের জন্যই বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়৷ তারাই নানা জায়গায় অভিযান চালাচ্ছিল৷ এখনও পর্যন্ত ৫১ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, যারা এ রকম শ্রমিকের কাজ করত৷

পার্লে জি-র ওই ফ্যাক্টরি থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের কেউ এসেছে ওড়িশা থেকে, কাউকে আনা হয়েছে মধ্যপ্রদেশ বা ঝাড়খণ্ড বা অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে৷ প্রত্যেক শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে৷ শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বাড়িতে নানা মিথ্যে কথা বলে তাদের আনা হয় কারখানায়। তাদের ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করানো হতো রোজ৷ মাস গেলে হাতে পেত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা৷

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পার্লে জি বিস্কুট কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন নেটিজেনরা৷ পার্লে জ-র মতো যে সংস্থার দেশ জুড়ে এত সুনাম, তারা এমন ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে জড়িত বলে নিন্দার শিকার হয় তারা৷ ওই ফ্যাক্টরির মালিকের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত শাস্তির দাবি উঠেছে৷

পুলিশকে গোটা ঘটনার খোঁজ দেন ‘বচপান বাঁচাও’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এক সমাজকর্মী। ওই সংগঠনের কর্ণধার সমীর মাথুর বলেন, “পার্লে জি-র মতো সংস্থার গ্রাহক হাজার হাজার শিশু। সেই শিশুদের প্রিয় খাবারটি যে অন্য শিশুর শ্রম নিংড়ে তৈরি, এই ঘটনা আমাদের লজ্জিত করে।”

Comments are closed.