ভোট মিটতেই তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন মালদায়, কাঠগড়ায় বিজেপি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : প্রকাশ্য রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল পুকুরিয়া থানার শিমলা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  মৃত যুবকের নাম সনাতন মহালদার (৩০)। বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকায় কীর্তনের আসর থেকে ফেরার সময় সশস্ত্র একদল দুষ্কৃতী তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘিরে ধরে। এরপর হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। অভিযুক্তরা বিজেপি আশ্রিত বলে অভিযোগ।

দলের ওই  কর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন আরও দুই তৃণমূল কর্মী রাজু মহালদার (৩২) এবং গণেশ মহালদার (২৮)।  আড়াইডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁদের। বুধবার রাত সাড়ে ১১ নাগাদ এই ঘটনার পর সিমলা গ্রামে পৌঁছোয় বিশাল পুলিশবাহিনী। মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে পুকুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের দাদা টুটুল মহালদার । ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তরা। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,  সনাতন এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল।  হকারি করতো। পরিবারে তার স্ত্রী, চার বছরের ছেলে, বাবা, মা, ভাই সবাই রয়েছেন। মৃতের মা পার্বতী মহালদার পুলিশকে জানিয়েছেন,  তাঁদের পরিবার তৃণমূল সমর্থক। তার ছেলে এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। পার্বতীদেবী বলেন, “বিজেপির লোকজন লোকসভা ভোটের আগে থেকেই তাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য সনাতনকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু আমার ছেলে মেনে শোনেনি। ভোটের আগে বাড়ির সামনে তৃণমূলের অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছিল। আর তাতেই বিজেপির কর্মীরা বদলা নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে। এ দিন রাতে কীর্তনের আসরে গিয়েছিল ছেলে। আর সেখান থেকে ফেরার সময় আমার ছেলেকে বিজেপির লোকজন কুপিয়ে মারে। ছেলের চিৎকার শুনে আমি ছুটে যাই।  দেখি ও রাস্তায় ছটফট করছে। অভিযুক্তরা হাঁসুয়া নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে। আমার চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন।”

উত্তর মালদার তৃণমূল প্রার্থী মৌসুম নূর বলেন,  “যেহেতু সনাতন তৃণমূল করতো সেই জন্যই ওকে খুন করা হয়েছে।  আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।  পুলিশের কাছে জানানো হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করব।”

বিজেপির জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র জানিয়েছেন,  যিনি খুন হয়েছেন তিনি তৃণমূল করতেন। আর হামলাকারীরা বিজেপির সমর্থক। কিন্তু এই ঘটনার পিছনে রাজনীতির কোনও রং নেই। তিনি বলেন, “কীর্তনের আসনের কমিটি গঠন এবং টাকা পয়সা তোলা নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত বলে জানতে পেরেছি। ওই কীর্তনের আসরে দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। কারা টাকা তুলবে, কারা কীর্তনের আসর পরিচালনা করবে এই নিয়ে গোলমাল শুরু হয় । আর সেই গোলমাল সংঘর্ষে পরিণত হয়। তারই জেরে একজন মারা গিয়েছে । তৃণমূল যে অভিযোগ করছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।”

পুলিশ সুপার অজয় প্রসাদ জানিয়েছেন,  পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More