শনিবার, এপ্রিল ২০

ডাকাত ধরতে এসে পুলিশ বলল, ‘যাঃ পিস্তলটাই তো আনিনি!’ তারপর..

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন কমেডি ছবির প্লট। সশস্ত্র ডাকাতদের ধরতে এসে পুলিশের খেয়াল হল সমস্ত অস্ত্র ফেলে এসেছে থানাতেই। তাড়াহুড়োয় সম্বল শুধু লাঠি। তাই দিয়ে কি আর দাগি আসামিদের ধরা যায়! এ দিকে অস্ত্রহীন পুলিশকে দেখে বেশ মজা পেয়েই ধমকধামক শুরু করেছে ডাকাতরা। অগত্যা, ফের জিপ ছুটল থানার দিকে। সেই ফাঁকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে ডাকাতরা ভোঁ ভাঁ।

এমন ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতেই। কর্তব্যকর্মে গাফিলতির অভিযোগে নেব সরাই থানার ওই তিন পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ডাকাতদের খোঁজে পাঠানো হয়েছে পুলিশবাহিনীকে।

ঘটনাটা ঠিক কী? নেব সরাই থানা থেকে ১৫০ মিটার দূরত্বে ব্যবসায়ী দীপক হাদার (৭৩)বাড়ি। স্ত্রী কিরণের সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ওই এলাকারই বাসিন্দা তিনি। পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী এবং দু’জন পরিচারক ছিলেন। চার জন যুবক বন্দুক উঁচিয়ে আচমকাই হানা দেয় তাঁদের বাড়িতে। বাড়ির বাইরে গেটের কাছে নিরাপত্তাকর্মীকে অজ্ঞান করে ভিতরে ঢুকে আসে। দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে আর একজন পরিচারককে ধরাশায়ী করে। তাঁর স্ত্রী ভয় পেয়ে প্রথমে বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেও দরজা ভেঙে ঢুকে দুষ্কৃতীরা তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে। বাধ্য হয়ে আলমারির চাবি ডাকাতদের দিতে তিনি বাধ্য হন।

পরিচারক রমেশের কথায়, প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে গোটা বাড়িতে তছনছ করে ডাকাতরা। বাড়িতে যখন এমন তাণ্ডব চলছে, সেই সময় তিনি কোনও রকমে বেরিয়ে নেব সরাই থানায় খবর দেন। তিন জন পুলিশ কর্মী সেই সময় ডিউটিতে ছিলেন। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। রমেশ বলেছেন, ‘‘পুলিশ দেখেই ধমকাতে শুরু করে ডাকাতরা। অপরাধীদের ধরার বদলে পুলিশ জানায় তারা অস্ত্র ফেলে এসেছে থানায়। সেই সব নিয়ে ফিরে এসেই ডাকাতদের মোকাবিলা করবে। সঙ্গে আনবে বিরাট পুলিশবাহিনী।’’ পুলিশ চলে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে ডাকাতরাও চম্পট দেয়।

জেসিপি (দক্ষিণ) দেবেশ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, পুলিশের এমন গাফিলতি কখনওই বরদাস্ত করা যায় না। ওই তিন কর্মীকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু হয়েছে। বাড়ির সমস্ত দামি জিনিস-সহ নগদ ১৫ লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী। পুলিশের আচরণে মর্মাহত তিনিও। বলেছেন, ‘‘টাকা লুঠ হওয়ার থেকেও বড় কথা তাঁর স্ত্রী ও অন্যদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। পুলিশ কখনও অস্ত্র আনতে ভুলে যায় এমন ঘটনা শুনিনি। আমি রীতিমতো হতবাক।’’

ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিসিপি (দক্ষিণ) বিজয় কুমার। তাঁর কথায়, ‘‘সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে। পুলিশের কাছে এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। আততায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।’’

Shares

Comments are closed.