সোমবার, অক্টোবর ১৪

ডাইনি বলল সমাজ, প্রাণ বাঁচাতে সারা রাত জঙ্গলে কাটিয়ে থানায় এলেন দম্পতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : ডাইনি সন্দেহে খুনের নিদান দিয়েছিল‌ সমাজ। সেই নিদান কার্যকর করার তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গেছিল। টের পেয়ে আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন আদিবাসী দম্পতি। সারারাত গ্রামের বাইরে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফুটলে কড়া নাড়লেন রায়গঞ্জ থানায়।

রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ইকোর গ্রামের বাসিন্দা সামিয়া হাঁসদা ও মন্টু হেমব্রম। বুধবার রাতে খাওয়া শেষে ঘুমতে যাওয়ার তোড়জোড় করছিলেন দু’জন। তখনই শুনতে পান ঘরের বাইরে বেশ কিছু মানুষের পায়ের শব্দ। কান পেতে শোনেন চাপা স্বরে আলোচনা। এ দিন সকালেই এলাকার কিছু মানুষ সামিয়াকে জানিয়েছিলেন সমাজের মাতব্বররা গঙ্গারামপুর থেকে গণনা করে এসে তাঁকে ডাইনি বলে চিহ্নিত করেছে। বিপদ বুঝতে সময় লাগেনি তাই।

চুপিসাড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ঘর লাগোয়া জঙ্গলে গা ঢাকা দেন ওই দম্পতি। তল্লাশি করে ঘরে তাঁদের না পেয়ে ফিরে যায় সমাজের লোক। সারারাত সেখানেই ছিলেন দু’জন। ভোরের আলো ফুটলে সবার নজর এড়িয়ে কোনওমতে চলে আসেন রায়গঞ্জ থানায়। সামিয়া বলেন, ‘‘এর আগেও একবার আমাকে ডাইনি বলে জানিয়েছিল গ্রামের মাতব্বররা। সেই সময়েও প্রাণের ভয়ে ঘর ছেড়েছিলাম। পরে পুলিশ গিয়ে ঘরে পৌঁছে দেয়। গ্রামের সবার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটায়। এ বার আবার আমাকে ডাইনি বলে মারার নিদান দিয়েছে জানগুরু। তাই আবার পুলিশের কাছেই এসেছি।’’

তিনি জানান, বুধবার রাতে ঘর না ছাড়লে মেরেই ফেলা হত তাঁকে। যাঁরা ঘরের বাইরে জমা হয়েছিল তাদের আলোচনা শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে নিয়ে পালান তিনি।

রায়গঞ্জ থানার তরফে এ বারও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দম্পতিকে আবারও গ্রামে ফিরিয়ে দেবেন তাঁরা। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে মাতব্বরদের বিরুদ্ধে।

Comments are closed.