গোপালের হারানো বিগ্রহ খুঁজে দিলেন কাত্যায়নী, তারপর থেকেই শুরু হল পুজো

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : শান্তিপুর মানেই তাঁতের শাড়ি। শান্তিপুর মানেই ভাঙা রাস। কিন্তু শান্তিপুর মানে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা অনেক অনেক দুর্গা পুজোর গল্প কথাও। সে কথা জানেন ক’জন ? শহরের গোস্বামী বাড়িগুলি ঘুরলে মেলে এমনই কত পুজোর ইতিহাস !

হারিয়ে গিয়েছিল শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির গোপাল ঠাকুর। তাঁর খোঁজ পেতেই শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা। ব্রত শুরুর তিনদিনের মধ্যে স্বপ্নে আবির্ভূতা হন দেবী। হদিস দেন শহরের উপকণ্ঠে পড়ে থাকা গোস্বামী পরিবারের গৃহদেবতার। বৈষ্ণব দার্শনিক ও ধর্মবেত্তা অদ্বৈত আচার্যের বংশে তারপর থেকেই শুরু হয় শক্তির স্তুতি।

 

শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির পুজোর এ বার ৩৫৪ বছর। পরিবারের অন্যতম সদস্য সত্যনারায়ণ গোস্বামী বলেন, “পুরাণে কথিত আছে, চুরি যাওয়া জিনিস উদ্ধার করতে গেলে কাত্যায়নী ব্রত করা প্রয়োজন। এ পরিবারেও গোপালের বিগ্রহ চুরি হওয়ার পর তার খোঁজ না পেয়ে দেবী কাত্যায়নীরই শরণ নিয়েছিলেন উদ্বিগ্ন সদস্যরা। গৃহের বধূরা শুরু করেছিলেন কাত্যায়নী ব্রত। তিনদিনের মধ্যে দেখা দিয়েছিলেন দেবী। খোঁজ মিলেছিল বিগ্রহের। গোপালকে ফিরে পেয়ে কাত্যায়নীরূপী দুর্গার পুজো শুরু করেন আমাদের পূর্বপুরুষরা।”

তবে বৈষ্ণব পরিবার। তাই দেবী এখানে নিরস্ত্র। তাঁর দশটি হাতে মধ্যে আটটি হাত ছোট এবং প্রতীকী। দুটি হাত বড়। সিংহ নয়, গোস্বামী বাড়িতে দেবী আসেন শ্বেত অশ্বে।

বাড়ির প্রবীণ সদস্যা বিজলী লাহিড়ী বলেন, “আমাদের দেবী আরাধনা সম্পূর্ণ আমাদের নিজেদের পারিবারিক পুঁথি মেনে হয়। চারটি পর্বে পূজিতা হন দেবী। পূজোর আচার অনুষ্ঠানে বাইরের লোকের প্রবেশ নিষেধ। তবে প্রতিমা দর্শনে আসতে পারেন সবাই।”

বোধনের ঢাক বাজলেই শুরু হয়ে যায় উৎসব। পুজোর চারদিনই ৩৬ রকমের ভোগ সাজিয়ে দেওয়া হয় দেবীর সামনে। জানালেন বড় গোস্বামী বাড়ির মহিলারা। নিরামিষ ভোগ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, এঁচোড়, কুমড়ো, লাউ, চাল কুমড়ো, ওলকচু, মানকচুর নানা বাহারি পদ, শুক্ত, বিভিন্ন ধরনের ভাজা, পায়েস ও নানা ধরণের মিষ্টি। পরিবারের দীক্ষাপ্রাপ্ত বধূদের হাতেই রান্না হয় সেই ভোগ।

একান্নবর্তী পরিবারের অনেকেই আজ কাজের সূত্রে বাইরে। তবে পুজোর সময় সবাই একত্রিত হন পুজোর দালানে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More