কেশপুরের একটা গ্রামেই জোর করে জরিমানা আদায় কোটি টাকা, ভাবতে পারেন?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : প্রাণ বাঁচাতে কাউকে দিতে হয়েছে পাঁচ লক্ষ, কাউকে এক লক্ষ। নিতান্ত সামর্থ্য না থাকায় ৫০ হাজারে রফা করা হয়েছে কারও সঙ্গে। সব মিলিয়ে অঙ্কটা প্রায় কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এমনটাই অভিযোগ কেশপুরের চড়কা গ্রামের বাসিন্দাদের। জরিমানা বাবদ আদায় করা এই টাকা ফেরত পেতেই এ বার কোমর বাধলো গোটা গ্রাম। টাকা ফেরত চেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে চিঠি দিলেন তাঁরা।

    ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। চড়কা গ্রামের বাসিন্দা হাসরৎ মির্জা, ফকির মল্লিক, নজরৎ মল্লিকদের অভিযোগ, সেই সময় থেকে মূলত সিপিএম করার ‘অপরাধেই’ জরিমানা আদায় হয়েছে তাঁদের কাছ থেকে। জরিমানা না দিলেই চলতো মারধর, সামাজিক বয়কট। তাঁরা বলেন, “টাকা না দেওয়ায় মারধর করে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে গ্রামের ৬৯ জন বাসিন্দাকে। অনেককে আবার চাষের জমিতে যেতে দিত না। বাড়ির বাইরে আসতে দিত না। তাই বাঁচার স্বার্থেই জরিমানা বাবদ টাকা দিয়েছি আমরা।”

    ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের পর বদলে যায় এলাকার পরিস্থিতি। কেশপুরে ভালো ভোট পেয়ে ঘাটাল কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী দেব জয়ী হলেও বিজেপির উত্থান ঘটে এখানেও। বিজেপির ছাতার তলায় চলে আসেন চড়কা গ্রামের মানুষজনও। জরিমানা আদায় করা তৃণমূল নেতারা এখন আর কেউ গ্রামে নেই। একসময় যে টাকা তাঁদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ আদায় করা হয়েছে, তাই এখন ফেরত পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন মানুষজন।

    গ্রামবাসীদের দাবি, জরিমানা ছাড়াও নিজ ভূমি নিজ গৃহ প্রকল্প সহ একাধিক প্রকল্পে উপভোক্তাদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। সেই সব অর্থও ফেরত চান তাঁরা। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে সম্প্রতি চিঠি লিখেছেন তাঁরা। এই চিঠিতে যেমন জরিমানার অর্থ ফেরত দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন, পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে কত টাকা নয়ছয় হয়েছে, হিসেব তুলে দেওয়া হয়েছে তারও। ওই চিঠিতে বিষয়টি সত্যি বলে স্বাক্ষরও করেছেন আমড়াকুচি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য বাবুরাম সরেন। তবে তৃণমূলের কেশপুর ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান বলেন, “এত দিন ধরে জরিমানার টাকা আদায় হল, অথচ সিপিএমের কেউ কিছু বলল না, এখন বিজেপির ছাতার তলায় এসে মানুষ অভিযোগ করছেন ? এ সব কেউ বিশ্বাস করবে? এই অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই।”

    অন্যদিকে, জেলার বিজেপি সভাপতি শমিত দাস বলেন, “চড়কা গ্রামের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, গোটা রাজ্যেই জেলায় জেলায় এমন চলছে। অন্য দল করলেই নানাভাবে উত্যক্ত করা হচ্ছে। জরিমানা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন এর প্রতিকার না করলে মানুষ তো নিজের হাতে আইন তুলে নেবেই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More