রবিবার, মার্চ ২৪

মানসিক চাপ বাড়ায় পেটের অসুখ, হতে পারে ক্যানসারও

দ্য ওয়াল ব্যুরোমানসিক চাপ যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী।

স্কুল-কলেজে পড়ার চাপ, অফিসের ডেডলাইন, ওয়ার্ক লোড, লোনের ইএমআই থেকে ব্যক্তিগত জীবন- স্ট্রেস দিন দিন বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মনোবিদদের মতে, গত কয়েক দশক ধরেই মানসিক চাপ মানুষের ইচ্ছাশক্তি হ্রাস করেছে। আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়েছে অনেকখানি। সময়ের তুলনায় ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়া ও কোনও কোনও ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে নিজেকে খাপ না খাওয়াতে পারা, এ সবের জন্যই থাবা বসাচ্ছে অবসাদ।

তীব্র মানসিক চাপ বা স্ট্রেস জন্ম দিতে পারে নানাবিধ রোগের, এমনটাই জানাচ্ছেন গবেষকেরা। স্ট্রেস থেকে হতে পারে বদহজম, বমি, পেটের নানা রোগ। তবে, সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ হল স্ট্রেসের কারণে হতে পারে ক্যানসারও। অবাক লাগলেও, এমনটাই সত্যি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ শরীরে তার ছাপ রেখে যায়। অতিরিক্ত স্ট্রেস কমায় রক্ত সঞ্চালন। চড়চড় করে বাড়তে থাকে রক্তচাপ। ফলে পৌষ্টিকতন্ত্রের ক্রিয়া ব্যাহত হয়ে দেখা হজমের সমস্যা ও পেটের নানা রোগ। এই সমস্যা বাড়তে থাকলে একসময় পৌষ্টিকতন্ত্রে কোষ এবং ক্ষুদ্রান্ত্র (Intestine)-এর কোষ তাদের কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, সাধারণত, পৌষ্টিকতন্ত্রের সমস্যার কারণে দু’ধরণের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুব প্রবল থাকে-১) গ্যাসট্রোইন্টেসটেনাল ক্যানসার (Gastrointestinal Cancer) এবং ২) গ্যাসট্রোইন্টেটেসটেনাল ব্লিডিং (Gastrointestinal Bleeding)। তা ছাড়া নিয়মিত হজমের সমস্যা, বমি ইত্যাদি কারণে বাড়তে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলসের মতো সমস্যা। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঘন ঘন পেট ব্যথা হওয়ায় আশ্চর্য নয়। এমনকি ক্রনিক পেটের সমস্যা তৈরি হয়েছে এমন নারী ও পুরুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মানসিক চাপ কী ভাবে বাড়ায় পেটের সমস্যা

গবেষকদের মতে, মানসিক চাপ স্নায়ুতন্ত্রের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। সেন্ট্রাস নার্ভাস সিস্টেম তার কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন অনেক কমে যায়। যা প্রভাব ফেলে পৌষ্টিকতন্ত্রের উপর। ফলে খাবার ঠিক মতো হজম না হয়ে বাড়তে থাকে পেটের নানা রোগ।

আর কী কী সমস্যা হতে পারে মানসিক চাপ (stress) থেকে:

  • স্ট্রেস স্নায়ুতন্ত্রের উপর অনেক ভাবে প্রভাব ফেলে। এর ফলে হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া, রেসপিরেশন রেট বেড়ে যাওয়ার সমস্যা যেমন হয়, তেমনই অতিরিক্ত অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ ও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
  • ক্রনিক স্ট্রেসের কারণে নানা রকম সমস্যা হতে পারে হার্টের। হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া, হাইপারটেনসন, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
  • অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে অ্যাস্থমা, নিশ্বাসের সমস্যা, প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।
  • অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে বদহজম, ডায়রিয়া, বমির সমস্যা হতে পারে।
  • স্ট্রেস পুরুষ, মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই বন্ধ্যাত্ব নিয়ে আসতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা জননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা দেয়। দীর্ঘ দিন স্ট্রেসের সমস্যা টেস্টোস্টেরন, শুক্রাণু উত্পাদনের মাত্রা কমাতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাবের মতো সমস্যা হতে পারে।

স্ট্রেস কমিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাই রোগ মুক্তির একমাত্র উপায়। তার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা ও সঠিক ডায়েট একান্ত জরুরি। তা ছাড়াও নানা পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারলে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব।

মানসিক চাপ কমাতে এই কাজগুলো করতেই পারেন-

  • রুটিনের বাইরের কিছু সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। সে ছবি আঁকা হোক বা বাগান করা। পছন্দের কোনও শখ থাকলে দিনের মধ্যে অন্তত আধ ঘণ্টা রাখুন তার জন্য। এ সব কাজে মনকে সক্রিয় রাখলে মানসিক চাপ কমে।
  • লক্ষ্যকে স্থির করুন। অনেকেরই স্বভাব, ‘মাল্টিটাস্কিং’ করা। ভাল কর্মী হিসাবে এক সময় এই গুণ খুব জনপ্রিয় হলেও, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু উল্টো কথা বলছে। চিকিৎসকদের মতে, মাল্টিটাস্কিং কোনও কাজেই আদতে মন দিতে দেয় না। বরং অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ করে মানসিক চাপ বাড়ায়। বরং একটি কাজকে আপনার লক্ষ্য হিসেবে স্থির করুন।
  • প্রতি দিন ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখুন ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশনের জন্য। চিকিৎসকদের মতে, মেডিটেশন রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ফলে, স্বাভাবিক ভাবেই কমে মানসিক উদ্বেগ।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন

Shares

Leave A Reply