হাসপাতালের মামা মাসিদের চোখে জল, হোমে চলে গেল রূপসা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : মঙ্গলবারই প্রথম ভাত খেয়েছিল রূপসা। সাত ব্যাঞ্জন সাজিয়ে দিয়েছিলেন নার্স মাসিরা। মুখে পায়েস তুলে দিয়েছিলেন ডাক্তার মামা। আবেগে আনন্দে ভেসে গিয়েছিল গোটা হাসপাতাল। চারদিনের মাথায় আজ ডায়মন্ডহারবার হাসপাতাল থেকে হোমে চলে গেল রূপসা।

    প্রশাসনিক নিয়ম মেনে আজ সিডব্লিউসির ডায়মন্ডহারবার শাখার সিনিয়র আধিকারিকরা হাসপাতালে পৌঁছোন। ঘড়িতে তখন দুপুর ১২টা। অন্যদিনের মতোই নার্স মাসিদের কোলে ঘুমোচ্ছে রূপসা। ওদিকে তখন তাঁকে হোমে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে কাগজপত্র। চোখে জল সংক্রামিত হচ্ছে তার আত্মজনদের মধ্যে। গত সাত মাসের প্রতিটা মুহূর্তই যে জুড়ে ছিল একরত্তি শিশুটি।

    সাত মাস আগে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল রূপসার। দুর্বল, আন্ডার ওয়েট। বাঁচানোর জন্য হাসপাতালের এসএনসিইউতে রাখা হয়েছিল তাঁকে। তার গর্ভধারিণী অবশ্য ফিরেও তাকায়নি। বাবাও নয়। সন্তানকে ফেলে রেখেই পালিয়ে চলে যান তাঁরা। কিন্তু ছোট্ট শিশুটিকে ফেলতে পারেননি হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স-অন্যান্য কর্মীরা। যত দিন গেছে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে পড়েছেন আরও। তাঁদের কোলে কোলেই বড় হয়েছে রূপসা।

    ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার রমাপ্রসাদ রায় জানিয়েছিলেন, রেজিস্টার দেখে রূপসার বাবা মায়ের খোঁজ করে সেই হাওড়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হননি বাবা-মা । তিনি বলেন, “আগেও দুই মেয়ে রয়েছে তাঁদের। এ বার ভেবেছিলেন ছেলে হবে। ফের মেয়ে হওয়ায় নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে আর বোঝা বাড়াতে রাজি হননি।”

    সেই রূপসাই বড় হতে থাকে হাসপাতালের বৃহত্তর পরিবারে। তাঁকে নিয়ে এত আবেগ- ভালবাসার মধ্যেই কিন্তু উঁকি দিয়েছে বাস্তব। সরকারি নিয়ম মেনে এক দিন না একদিন তো ছাড়তেই হবে তাকে। পাঠাতে হবে হোমে। সেই দিনটাই চলে এল আজ। হোমে চলে গেল ছোট্ট রূপসা। তার মায়ামাখা হাসপাতালের ঘরগুলি ফাঁকা লাগছে বড্ড। তার মামা মাসিদের। কিন্তু হোম থেকেই তো ঘর পাবে, মা-বাবা পাবে রূপসা। সেই ভেবেই নিজেদের মনকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More