বুধবার, মার্চ ২০

Breaking: নতুন বছরে শহরে প্রথম অঙ্গদান, গ্রিন করিডর করে এসএসকেএম-এ কিডনি-লিভার, সফল প্রতিস্থাপন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরে শহরে প্রথম অঙ্গদানের ঘটনা ঘটল। অঙ্গদানের পর গ্রিন করিডর করে নিয়ে গিয়ে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হলো কিডনি ও লিভার।

সল্টলেকের নয়াবাদের বাসিন্দা সুমিতা বোস একটি মন্টেসরি স্কুলে চাকরি করতেন। ২২ জানুয়ারি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ম্যাসিভ ব্রেন স্ট্রোক হয়। রাস্তাতেই পড়ে যান তিনি। স্থানীয় লোকেরা তাঁকে তুলে ভর্তি করেন বাইপাস সংলগ্ন আরএন টেগোর হাসপাতালে। ব্রেন স্ট্রোকের ফলে কোমায় চলে যান তিনি।

আরও পড়ুন:  “হয় তেরঙ্গা উড়িয়ে ফিরব। নয়তো ওই তেরঙ্গাতেই জড়িয়ে ফিরব”, বলেছিলেন কার্গিল শহিদ ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রা

২৪ জানুয়ারি চিকিৎসকেরা সুমিতা দেবীর পরিবারকে জানিয়ে দেন, বাঁচার কোনও আশা নেই। ব্রেন ডেথ হয়ে যাচ্ছে। ২৫ জানুয়ারি চিকিৎসকরা জানান, সুমিতা দেবীর ব্রেন ডেথ হয়ে গিয়েছে। পরিবারকে অঙ্গদানের প্রস্তাব দেওয়া হলে পরিবার রাজি হয়ে যায়। স্বাস্থ্যভবনে খবর দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যভবন থেকে কর্মীরা যান। রাত ১০টায় অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

শনিবার সকালে স্বাস্থ্যভবনের ব্রেন ডেথ কমিটির সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করে সরকারিভাবে ব্রেন ডেথের কথা ঘোষণা করেন। এরপরেই হারভেস্টিংয়ের ( অঙ্গ সংগ্রহ ) কাজ শুরু হয়। দুটি কিডনি ও লিভার সংগ্রহ করা হয়। ঠিক হয়, একটি কিডনি ও লিভার যাবে এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে একজনের শরীরে লিভার ও আরেক রোগীর শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপিত হবে। অন্য কিডনিটি এরএন টেগোর হাসপাতালেই এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে।

সুমিতা দেবীর ছেলে অভিরাজ বোস জানিয়েছেন, “মাকে যখন ফিরেই পাব না, তখন মার দেহের মধ্যে যেগুলো বেঁচে আছে, সেগুলো নষ্ট করব কেন? তাই আমাকে প্রস্তাব দেওয়ার পর বাড়ির লোকের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিই। মা তো অন্য কারও শরীরে বেঁচে থাকবে। এই আশা নিয়েই অঙ্গদান করেছি। একজন মরণাপন্ন রোগীও প্রাণ ফিরে পাবে।”

সুমিতা দেবীর হার্টও দান করার কথা হয়েছিল। কিন্তু হার্টের যা অবস্থা, তা অন্য কারও শরীরে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। তাই শুধু কিডনি ও লিভার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুমিতা দেবীর চোখ বা ত্বক দান করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে অভিরাজ বলেন, “আমি চাইনি আমার মায়ের শরীরের বাইরের কোনও অঙ্গ দান করতে। মায়ের মৃত্যু আমার কাছে সবথেকে বড় ধাক্কা। সেখানে আমি চাই না, মায়ের চোখ দুটো বা স্কিন থাকবে না। তাই আমি বলেছি দেহের ভিতরের যা অঙ্গ নেওয়ার নিন।”

দুপুর ২.০৫ নাগাদ আরএন টেগোর থেকে একটি কিডনি ও লিভার নিয়ে গ্রিন করিডর করে রওনা দেয় অ্যাম্বুলেন্স। এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছয় ২.২০ নাগাদ। আগে থেকেই ঠিক ছিল সেখানে সৈকত রায়চৌধুরির দেহে লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে। কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে রোহিত মিশ্রর দেহে।

যাওয়ার পরেই এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করে দেন। অন্যদিকে আরএন টেগোর হাসপাতালেও শুরু হয়ে যায় অস্ত্রোপচার। দুটি হাসপাতালেই সফলভাবে অস্ত্রোপচার করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন শেষ হয় সন্ধ্যে ৬টা নাগাদ। অন্যদিকে আরএন টেগোর হাসপাতালে বিকেলের দিকে কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিস্থাপনের পর রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.