শনিবার, মে ২৫

আকাঙ্ক্ষার এখন একটাই আকাঙ্ক্ষা, ভোট দিক নতুনডি গ্রামের মেয়েরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : লোকসভা, বিধানসভা, অত জানা নেই ওঁদের। তবে ভোট যে হয়, সেটুকু জানেন। ভোটার লিস্টে যে তাঁদের নাম রয়েছে, জানেন সে কথাও। তবে সংসার, সন্তান, গাই বাছুর সামলে ভোট দিতে আর যাওয়া হয় না কখনও। এবং তার জন্য কোনও খারাপ লাগাও নেই। আসলে অধিকার শব্দটা নিয়েই যে কোনও মাথাব্যথা নেই ওদের।

রঘুনাথপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম নতুনডি। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভোটের দিনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ গ্রামে ভোটকেন্দ্রে যান না মহিলা ভোটারদের প্রায় কেউ। তাঁদের ভোটদানের হার থাকে একেবারে শূন্য। ছবিটা কী ভাবে বদলানো যায় তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছিলই। বৃহস্পতিবার রঘুনাথপুরের এসডিও আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর নতুনডি গ্রামে গিয়ে কথা বললেন ভোটারদের সঙ্গে। হাত ধরে অনুরোধ করলেন ১২ তারিখ বুথমুখী হওয়ার জন্য। পরে আকাঙ্ক্ষা বললেন, “আমার উপর আস্থা রেখেই আজ ডিএম সাহেব (রাহুল মজুমদার) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন ওঁদের সঙ্গে কথা বলতে। ওঁরা আমাকে কথা দিয়েছেন ১২ তারিখ সবাই বুথে যাবেন। ভোট দেবেন। যদি ওঁরা কথা রাখেন, সেটা হবে আমার বিশাল পাওনা।”

রঘুনাথপুর ২ ব্লকের নতুনডি গ্রাম পাড়া বিধানসভার অন্তর্গত। জানা গেল, ২০০৯ সালের লোকসভা ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে নতুনডি হাইমাদ্রাসা স্কুলের বুথে মুসলিম মহিলা ভোটারদের ভোটদানের হার ছিল এক্কেবারে শূন্য। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। তখনকার বিডিও উৎপল ঘোষের চেষ্টায় ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় এই গ্রামের ৪২ জন সংখ্যালঘু মহিলা ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবার একই ছবি। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র একজন। আর ২০১৮- র পঞ্চায়েত ভোটে বুথে গিয়ে ভোট দেন ৩ জন।

বছরের পর বছর ধরে কেন এমন ছবি ?

আকাঙ্ক্ষা বললেন, “আসলে এদের সমাজটা পুরোপুরি পিতৃতান্ত্রিক। ছেলেরা যেমন বলবে মেয়েরা তেমনটাই করবে। এইভাবে চলতে চলতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আর কোনও সচেতনতাই তৈরি হয়নি ওদের মধ্যে। ভোটের দিন মেয়েরা বাড়ির বাইরে যাবে না এটাই বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এ বার ওরা ভোট দিতে যাবে বলে আমায় কথা দিয়েছে। দেখা যাক।”

ডাক্তারির ছাত্রী ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। তবে ডাক্তারি না করে আইএএস পরীক্ষা দিয়ে এখন রঘুনাথপুরের এসডিও তিনি। কিন্তু ফুরসত পেলেই প্রশাসনিক কর্তার ঘেরাটোপ ঝেড়ে ফেলে গ্রামে গঞ্জে ছুটে যান ডাক্তারি করতে। (সেই খবর দ্য ওয়ালে আগে প্রকাশিতও হয়েছিল) তাই প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষগুলির সঙ্গে একটা যোগ তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। সেই অধিকার নিয়েই আজ গ্রামের মেয়েদের অধিকার রক্ষার লড়াই শেখাতে গিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা ১২ মে পর্যন্ত।

আরও পড়ুন…

ফিরতে হল না গ্রামবাসীদের, ছুটির দিনে ডাক্তারি করলেন মহকুমা শাসক

Shares

Comments are closed.